সারাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১২ বছর অনুপস্থিত থেকেও বহাল শিক্ষক মামুন, প্রতারণার অভিযোগে নতুন বিতর্ক

চাঁদপুরের ১২ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বহাল শিক্ষক! এমপিও ও পুনর্বহাল নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন

মো: রাজন পাটওয়ারী, স্টাফ রিপোর্টার চাঁদপুর:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রাঃ) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুনকে ঘিরে দীর্ঘ ১২ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও চাকরি বহাল থাকা এবং পরে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনা চলছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুন ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ে তার এমপিও ইনডেক্স (C-2000896) সক্রিয় ছিল। তবে ওই সময়ে সরকারি বেতনের অর্থ তিনি পেয়েছেন কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এছাড়া অনুপস্থিতির বিষয়ে বিধি অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুনের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় থাকতে পারেননি। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের দাবি, তারা তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলার কথা জানেন না। বরং এলাকায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল বলে তারা জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মো. আল মামুন একটি সাধারণ আবেদন নিয়ে তার কাছে আসেন। ওই আবেদনের ভিত্তিতেই তাকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার বেতন বিল স্বাক্ষর করা হয়।

সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও কেন বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি এবং বিধি অনুযায়ী কোনো শোকজ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মনে নেই, নথিপত্র দেখে বলতে হবে। লিখিতভাবে না জানিয়ে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে ১২ বছর পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন বিল জনতা ব্যাংকে পাঠানো হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ জনতা ব্যাংক পিএলসির শাখা ব্যবস্থাপক কে. এম. ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমোদিত বেতন বিলের ভিত্তিতেই ব্যাংক বেতন প্রদান করে। তবে এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আরও সতর্ক থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাও জানান, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে দীর্ঘ ১২ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও বিধি অনুসরণ না করে চাকরি বহাল রাখা হয়েছে কিংবা তথ্য গোপন করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমপিও নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,