“তারাগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে দুই মাদক কারবারি আটক, উদ্ধার ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা”
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী পৃথক দুটি অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ১২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাতে তারাগঞ্জ বাজারের গরুহাটি পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে গরুহাটি হরিজন কলোনী এলাকার বাবুলাল বাঁশফোড়ের ছেলে মিলন বাঁশফোড়কে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই রাতে উপজেলার অনন্তপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় ওই এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মোঃ মোকছেদুল ইসলাম (৫২)-কে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ জানায়, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি উপজেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তারাগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকমুক্ত তারাগঞ্জ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।




