নবীনগরে সন্ত্রাসীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রায় অর্ধশত লোক আহত।
মাজহারুল ইসলাম বাদল,নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়ন চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গু*লি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আজ রবিবার সকাল ৭টা থেকে প্রায় ০৯/৩০ পর্যন্ত চলা এই হামলায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে নদী ভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আজ সকালে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা দিতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে বালু উত্তোলনে জড়িত দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি গু*লি বর্ষণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন গ্রামবাসী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষ ও হামলায় নারীসহ আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহতদের আর্তচিৎকারে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ
চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড় কেটে সাবাড় করছে।
এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকিতে পড়ায় তারা প্রতিবাদ করেছিলেন,কিন্তু এর বিনিময়ে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে—এমনটা কেউ কল্পনা করতে পারেননি।
এবিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আমরা ঘটনার খবর জানতে পেয়ে, সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স প্রেরণ করি,পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে, তাৎক্ষণিক সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়, আমরা এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, আমাদের নবাগত এমপি জনাব এম এ মান্নান সাহেব, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটে, এখন দেখার বিষয়, মাননীয় এমপি সাহেব এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেন।





