পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, প্রিন্টিং প্রেস জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী নিউ সিটি অফসেট প্রিন্টিং প্রেস জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে নানা মাধ্যমে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা রেহেনা আক্তার। নিজের একমাত্র জীবিকার অবলম্বন প্রেসটি তালাবন্ধ থাকায় কঠিন সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া প্রেসে কর্মচারীরাও মানবেতন দিন পাড় করছেন।
৬ মার্চ শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জেলা প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা জানান, ১৯৮০ সালে পঞ্চগড় বাজারের কদমতলা নামক স্থানে ৫.৬২ শতক জমিতে সিটি স্টিল নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তার স্বামী গোলাম রব্বানী বানী। ২০০৭ সালে ব্যবসা বদলে ওই স্থানেই নিউ সিটি অফসেট প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন করে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। ২০২১ সালে গোলাম রব্বানী বানী মারা গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেন তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার। ২০২৫ সালের মার্চে নতুন করে ডিসিআর নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু গত ৩১ জানুয়ারি তার স্বামীর ভাই ইকবাল কায়সার মিন্টুর স্ত্রী দিল আফরোজ ও মেয়ে সুমাইয়া কায়সার ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেয়। পরে বণিক সমিতির মধ্যস্থতায় এক সপ্তাহ পড়ে তা খুলে দেয়া হলেও গত ৫ মার্চ আবারো লোকজন নিয়ে প্রেসটি জবর দখলের চেষ্টা করে তারা। এক পর্যায়ে বণিক সমিতির লোকজন প্রেসটি তালাবদ্ধ করে দেয়। এতে দুই মেয়ে নিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই নারী উদ্যোক্তা। কাজ হারিয়ে মানবেতর দিন পাড় করছেন প্রিন্টিং প্রেসটির শ্রমিকরাও।
রেহেনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে আমরা এই প্রেসটি পরিচালনা করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। আমাদের আয়ের আর কোন পথ নেই। কিন্ত আমার স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে বার বার আমার প্রেসে আক্রমণ করছে, তালাবদ্ধ করে দিচ্ছে। আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। অথচ আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই প্রেসটি পরিচালনা করছি। সরকার আমাকে ডিসিআর দিয়েছে। এখন প্রেসটি বন্ধ থাকায় আমরা কঠিন সমস্যা পড়ে গেছি। সামনে ঈদ কিভাবে আমরা চলবো ভেবে পাচ্ছি না। আমার শ্রমিকরা মানবেতন দিন পাড় করছে। আমি চাই বণিক সমিতি নয় প্রশাসন এই বিষয়টি সমাধান করুন। সেই সাথে যারা আমার প্রেসটি জবর দখল করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই প্রেসে মারামারির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একটি পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।





