কিশোরী উদ্ধার অভিযানে বিতর্ক: চকরিয়ায় মারধরের অভিযোগে এসআই মো. আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অপহরণের শিকার এক কিশোরীকে উদ্ধারের সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও মারধরের অভিযোগ ওঠায় পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ঘটেছে। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার এক বাসিন্দা তাঁর কিশোরী মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ এনে শনিবার চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে ফাঁসিয়াখালী এলাকার নুরুল আমিন নামের এক যুবককে আসামি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে।
তবে অভিযানের সময় নুরুল আমিন ও উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের ব্যবহৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপ ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত নুরুল আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “অপহৃত এক কিশোরীকে উদ্ধারের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এসআই আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অপহরণ মামলায় নুরুল আমিনকে আসামি করা হয়েছে।”
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশি আচরণ ও অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।





