দেবীগঞ্জে বদেশ্বরী বিটের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গাছ কাটার মহাউৎসব চলছে
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বদেশ্বরী বিটের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দিনে দুপুরে গাছ কাটার মহাউৎসব চলছে।
বনবিভাগের দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল করিমকে ম্যানেজ করে বদেশ্বরী বিট কর্মকর্তা সোহেল সর্দার সাব্বিরের সহযোগিতায় এসব গাছ কেটে ফেলছে।
বোদা উপজেলার কোনা বালাপাড়া এলাকার
আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে সর্দারপাড়া এলাকার
আবু তালেব, হবিবর রহমান, সর্দারপাড়ার সাদ্দাম হোসেন, কোনা বালাপাড়ার শামসুল আলম ও মমিন মিয়া যোগসাজশ করে দিনে রাতে কেটে ফেলছে বন বিভাগের গাছ। এদেরকে সহযোগিতা করছে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড আশরাফুল আলম। সে বোদা উপজেলার বদেশ্বরী বিট অফিসের ভাউলাগঞ্জ পিপি অফিসে কর্মরত আছে। তাদের কাছ থেকে গাছ প্রতি দৈনিক ও সাপ্তাহিক হিসেবে চুক্তি করে টাকা আদায় করছে।
তবে আশরাফুল আলম টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, গাছ কাটার সাথে সাথে আমি বিট কর্মকর্তাকে ফোন করে জানাই তারপরেও সে এলাকায় আসেনা। সব সময় দেবীগঞ্জ রেঞ্জে অবস্থান করে। আমি একা মানুষ জীবনেও ঝুকি নিয়ে কিভাবে তাদের সাথে লড়বো। যারা গাছ কাটে তাদের নামে মামলা দেয়ার দায়িত্ব বিট কর্মকর্তার। সে কি কারনে মামলা দেয় না তা আমি জানিনা।
বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কোনা বালাপাড়া ও সর্দারপাড়া এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীরা সরজমিনে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পান। সর্দারপাড়া এলাকায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২০টি গাছ কাটা হয়। প্রতেকটি গাছ বড় ধরনের। অনুমান করা হচ্ছে একেকটি গাছের মূল্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
কোনা বালাপাড়া এলাকার আরেক মোমিনের নেতৃত্বে কাটা হচ্ছে গাছ। তার সাথে সোহেল রানা, মিনহাজ আলী, আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েক জন রয়েছে।
তবে বদেশ্বরী বিট কর্মকর্তা সোহেল সর্দার সাব্বির ২/৩ টি গাছ কাটার কথা স্বীকার করেন। দূর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তার কারনে দিন দিন বন বিভাগের গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। গাছ কাটার পরেও বিট কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারনে তাদের নামে মামলা দিচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, বদেশ্বরী বিট কর্মকর্তা সোহেল সর্দার সাব্বির তার বিট এলাকায় অবস্থান না করার কারনেই এসব গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।
সোহেল সর্দার সাব্বির বর্তমানে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ অফিসে রাত্রি যাপন করেন। সারাদিন রেঞ্জ অফিসেই শুয়ে বসে দিন কাটান আর সরকারের বেতন নেন। সে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ অফিসে অবস্থান করার কারনে ও গাছ কাটার সাথে জড়িত থাকার কারনে এর আগে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করা হলেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল করিমকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহুত মোবাইল ফোনে নক করলে তিনি জানান আমি মিটিং আছি। পরে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো।





