সারাদেশ

সান্তাহারে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের সাহেব পাড়া মহল্লার রায়হানের মাদ্রাসা পড়ুয়া একমাত্র মেয়ে নিখোঁজের কয়েক ঘন্টা পর রাকামুণি নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে সান্তাহার টাউন পুলিশ ফাঁড়ি।
এ ঘটনায় একই মহল্লার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন (৪৫) তার স্ত্রী বণ্যা (৩৮) এবং নিকটতম প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাবুর মা ও স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় অভিযুক্তরা আহত হয় এবং পুলিশের গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
রাকামুণি (৭) আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা আট নম্বর ওয়ার্ডের মোটর মেকানিক রায়হান হোসেনের একমাত্র মেয়ে। রাকা স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাহেব পাড়া মহল্লার বাসিন্দা মোটর মেকানিক রায়হান হোসেনের একমাত্র মেয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার সময় একই এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও রাকা বাসায় ফিরে না আসায় তার ফুফু শিক্ষিকার কাছে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে রাকা সেদিন প্রাইভেট পড়তে যায়নি। এরপর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সন্ধান না পেয়ে রাকার বাবা রায়হানকে খবর দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করে। বাড়িতে ফিরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে মেয়েকে না পেয়ে স্থানীয়দের পরামর্শে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিরীহ স্বভাবের মেয়ে রাকার কানে স্বর্ণের  নতুন দুল খুলে নিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে। আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং ঋণগ্রস্ত অবস্থায় থাকলেও ঘটনার দিন হঠাৎ করে প্রচুর কেনাকাটা করে। তার এই আচরণ সন্দেহের সৃষ্টি করে। সন্দেহের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমজাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালে একটি কক্ষে ব্রয়লার মুরগির খাঁচার পাশে রাখা পোল্ট্রি ফিডের বস্তা দেখতে পান। তারা অনুমান করে বস্তার ভিতর রাকার নিথর দেহ দুমড়ে মুচড়ে রাখা হয়েছে। তৎক্ষনাৎ তারা পুলিশ খবর দেয়। খবর পেয়ে সান্তাহার টাউন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খোন্দকার ফরিদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পরেই আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন ও আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে চিকিৎসার জন্য নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

তবে গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জণগণ।  পরে সান্তাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বক্কর এবং যুগ্ম আহবায়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবসহ কয়েক সাংবাদিক ও স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় রাত প্রায় ১টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয় সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী চিকিৎসাধীন ছিলো। বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরে তারা আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত আহতদেরকে নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, ঘটনাটি জেনে আমি খুবই মর্মাহত। এই মর্মান্তিক হত্যা কান্ডের অতি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,