রেলওয়ের প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই বিলের টাকা ঠিকাদারের হাতে
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
নিয়ম অুনযায়ি রেলওয়ের কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন দেবে কর্তৃপক্ষ বরাবরে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলে তবেই ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হবে। কোনো প্রকল্পের কাজ আংশিক সম্পন্ন হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আংশিক বিল দেওয়া যায়। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হলে পুরো বিল পরিশোধের সুযোগ নেই জানা গেছে।
কিন্তু পাহাড়তলীর একটি প্রকল্পে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রকল্পের ১৮ লাখ টাকার পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ে সেল ডিপো ও রেলের সিসিএস দপ্তরে ২৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, লাইট বসানো ও অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে ১৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় রহমান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কনক নামের এক ব্যক্তি।
জানা গেছে, রেলওয়ের অধিকাংশ ঠিকাদার কাজ শেষ করার পরও অর্থসংকটের অজুহাতে দীর্ঘদিন বিলের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু রহমান
এন্টারপ্রাইজ গত ২৩ জুন কাজ সম্পূর্ণ না করেই পুরো প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে। কোনো ধরনের কার্যকর যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিল পরিশোধে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
শুধু এই প্রকল্প নয়, সিআরবির গোয়ালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকাতেও কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের বিল পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ না করেই পুরো বিল পরিশোধের বিষয়টি রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে জানাজানি হলে শুরু হয় সমালোচনা। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে কাজে নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে এখনো প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
গত ৪ জুলাই সকালে সরেজমিনে রেলের সিসিএস দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও লাইটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। পরে সেল ডিপো এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে খুঁটি স্থাপনের কাজ তখনো শেষ হয়নি। এ সময় কাজের দায়িত্বে থাকা কবির নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, এটি কনক সাহেবের কাজ। আমরা এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে সিসিএস দপ্তরের লাইটিংয়ের কাজ করছি। এরপর সেল ডিপোতে খুঁটি স্থাপন ও তার টানার কাজ শেষ করব। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।
জানতে চাইলে একাধিক ঠিকাদার এই বিষয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করলে সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে নিম্নমানের বা অসম্পূর্ণ কাজ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সৎ ঠিকাদাররা বৈষম্যের শিকার হন। তারা আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও প্রকল্পের তদন্ত করা জরুরি। ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলে সাড়া মেলেনি। এই বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রহমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কনকের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





