সিরাজগঞ্জে তরিকুল হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন ১০জন খালাস
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তরিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হীরা মিয়াসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা মামলায় ১৪ আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ সাজাগুলোর একটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রাম পাঙ্গাসী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান, তার ভাই ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হীরা মিয়া, সলঙ্গা থানার বোয়ালিয়ার চর এলাকার মাজেম আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং জেছারত আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
এপিপি শামচুজ্জোহা শাহানশাহ বলেন, মামলায় মোট ১৪ জন আসামি ছিলেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত পাওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩০ আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তরিকুল ইসলামকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত তরিকুল ইসলাম সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর নিহতের ভাই আব্দুল মন্নাফ বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা চলে। অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর ১০ আসামিকে খালাসের রায় দেন।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই হত্যা মামলার রায়ে একদিকে চার আসামির দণ্ড নিশ্চিত হলেও অপরদিকে অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন ১০ জন। ফলে প্রায় দেড় দশক পর আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সমাপ্তি এলো।




