ঝিনাইদহে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, উদ্বেগ-আতঙ্কে সাধারণ মানুষ” প্রশ্নের মুখে জননিরাপত্তা
মোঃ সাকিবুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে দিন দিন বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। হত্যা, হামলা, মারামারি, ছিনতাই, চুরি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যসহ নানা ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একের পর এক অপরাধের ঘটনায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির মানুষ। সামান্য বিষয় থেকে শুরু হচ্ছে বাকবিতণ্ডা, পরে তা রূপ নিচ্ছে সংঘর্ষ ও হামলায়। কখনো কখনো এসব ঘটনার পরিণতি হচ্ছে প্রাণহানি। এতে একদিকে যেমন স্বজন হারাচ্ছেন পরিবারগুলো, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
কিশোর অপরাধ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা, মাদক সেবন, আড্ডা, মারামারি ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনতা, পারিবারিক নজরদারির অভাব, মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয়কে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলায় বিভিন্ন সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নেমে আসছে শোক ও আতঙ্ক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনে থাকা কারণগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে মাদক নির্মূল, কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঝিনাইদহবাসীর প্রত্যাশা—অপরাধের লাগাম টেনে ধরে জেলার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে। জনমনে আতঙ্ক নয়, শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ ফিরে আসুক—এটাই এখন জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।



