চাঁদপুরে লোন দেওয়ার কথা বলে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ “লাপাত্তা চক্র”

মহামায়া, করবন্দ, মান্দারী, পল্লী বিদ্যুৎ, ঘোষের হাট, ধোলাইতলী ও মহেশপুরে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
মো. হাবিবুর রহমান, (চাঁদপুর)
চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সহজ শর্তে লোন দেওয়ার কথা বলে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর একটি চক্র লাপাত্তা হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহামায়া, করবন্দ, মান্দারী, পল্লী বিদ্যুৎ, ঘোষের হাট, ধোলাইতলী এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মহেশপুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, “স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি” নাম ব্যবহার করে চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে লোন দেওয়ার কথা বলেন। লোন পাওয়ার আশায় অনেকে সদস্য হয়ে সঞ্চয় ও বিভিন্ন খরচের নামে টাকা জমা দেন।টাকা জমা দেওয়ার পর তাদের পাশবই ও বিভিন্ন কাগজপত্র দেওয়া হয় বলেও জানান তারা।
ভুক্তভোগী হাওয়া বেগম জানান, চক্রের নারী তার নাম নূর জাহান পরিচয় দেন। এবং তার এই মোবাইল নম্বর ০১৯৮৬৩৬৫০৬৮ তাকে লিখে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে কল দেওয়া হলে নম্বর টি বন্ধ পাওয়া যায়।
কিন্তু টাকা নেওয়ার পর লোন না দিয়ে সংশ্লিষ্টরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। পরে তাদের খোঁজ করতে গিয়ে মহামায়া এলাকায় কথিত অফিসে তালা ঝুলতে দেখেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের নাম ও অভিযোগকৃত টাকার পরিমাণ
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করবন্দ, দক্ষিণ উপাদী, ৮নং ওয়ার্ড, মতলব দক্ষিণ এলাকার
১. আয়শা শাহালম — ৪,৫০০ টাকা
২. লতুফা মান্নান — ৭,৫০০ টাকা
৩. পেয়ারা জসিম — ৭,৫০০ টাকা
৪. ফাতেমা মোতালেব — ১০,৫০০ টাকা
৫. মরিয়ম রুহুল আমিন — ১৫,৫০০ টাকা
৬. মাসুদ — ১০,০০০ টাকা
৭. মোস্তফা — ৫,৫০০ টাকা

এ ছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মহেশপুর গ্রামের—
৮. হাওয়া মাসুদ — ১৫,৫০০ টাকা
৯. নাছিমা বাবুল — ১৫,৫০০ টাকা
১০. লাভলী সাইয়েদ আহম্মেদ — ১৫,৫০০ টাকা
১১. আমেনা রহিম — ২,১৫,০০ টাকা
এছাড়াও পল্লী বিদ্যুৎ, ঘোষের হাট ও ধোলাইতলী গ্রামের মানুষের কাছ থেকেও একইভাবে লোন দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব এলাকার আরও ভুক্তভোগী থাকলে তাদের তথ্যও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, কেউ সঞ্চয়ের টাকা, আবার কেউ ধার-দেনা করে লোন পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছেন। এখন লোন না পেয়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।





