রাবিপ্রবির তিন সহকারী অধ্যাপকের নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির শর্তের সঙ্গে যোগ্যতার অসামঞ্জস্যের অভিযোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) ২০১৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তিন সহকারী অধ্যাপকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে একাধিক অসামঞ্জস্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
ড. তানজিম মাহমুদ: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ১৯ মার্চ ২০২০ যোগদান করেন ড. তানজিম মাহমুদ। তুলনামূলক নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নিয়োগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সনদে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ (GPA) ৪.৫০ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। তবে নথিতে তানজিম মাহমুদের
মাধ্যমিকে সিজিপিএ (CGPA) ৩.৫০ ও উচ্চ মাধ্যমিকে সিজিপিএ (CGPA) ৩.৪০ রয়েছে বলে সনদে পাওয়া যায়। ফলে তাঁর একাডেমিক ফলাফল বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। কিসের ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপিঠে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।
ড. সুপ্রিয় চাকমা: একই দিনে ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন ড. সুপ্রিয় চাকমা। তুলনামূলক নথিতে তাঁর পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর, শিক্ষাজীবনে তিনটি প্রথম বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে যোগদানের সময় তাঁর বয়স ৪৩ বছরের বেশি ছিল, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (সম্মানে) এ দ্বিতীয় বিভাগ ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পূর্বে শিক্ষকতার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। সব মিলিয়ে বিজ্ঞপ্তির বয়স, শিক্ষাগত ফলাফল ও অভিজ্ঞতার শর্তের সঙ্গে তাঁর যোগ্যতার অসামঞ্জস্যের প্রশ্ন তৈরি হয়।
ড. নিখিল চাকমা: ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স
বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ১৯ মার্চ ২০২০ যোগদানকারী ড. নিখিল চাকমার ক্ষেত্রেও যোগ্যতার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য স্নাতক (সম্মান) ও
স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ এবং সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু তুলনামূলক তথ্যে তাঁর স্নাতক(সম্মান)-এ সিজিপিএ ৩.০০, স্নাতকোত্তর-এ ৩.০৯ এবং আবেদনের সময় বয়স ৩৫ বছর ১০ মাস উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁর পূর্বে শিক্ষকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না বলেও জানা যায়। ফলে বিশেষ করে একাডেমিক ফলাফল ও বয়সসীমার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির উল্লিখিত শর্তের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ।
২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. তানজিম মাহমুদ বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক বলেন,আমি একটু কাজে ব্যাস্ত আছি পরে ফ্রী হয়ে ফোন করবে বলে কলটি কেটে দেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. নিখিল চাকমা বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক বলেন তখনতো আমি ছিলাম না বলেই ফোন কলটি কেটে দেন।
এবং পরবর্তীতে তাঁকে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. সুপ্রিয় চাকমা বলেন, এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দেওয়ার কিছু নাই। সংস্থাপন শাখায় যোগাযোগ করেন।
এবিষয়ে জানতে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী’কে ফোনে কল করলে তিনি জানান,এখন মিটিং-এ আছি পরে যোগাযোগ করেন, পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও
তিনি রিসিভ কল রিসিভ করেননি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, নিয়োগের সময় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স ও অভিজ্ঞতার শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল। কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত শিথিল করা হয়ে থাকলে তার বিধিগত ভিত্তি ও অনুমোদন কী ছিল, সেটিও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নথি পর্যালোচনার বিষয়।
তথ্যসূত্রে জানা যায়,সম্প্রতি আলোচনায় থাকা রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগের শর্তাবলি পূরণ না করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।





