৫ মাসের বেতন না দিয়ে চুরি মামলা, কেরানীগঞ্জে সদাগর এক্সপ্রেস শ্রমিকদের কর্মবিরতি
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
0
Comments
74 Views
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ চুরি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে কেরানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকলেও কর্তৃপক্ষ বারবার পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে।
শ্রমিকরা জানান, গত মে মাস থেকে টানা কয়েক মাস ধরে অনেক কর্মচারীর বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানালে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় কয়েকজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের লেবার ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। তার মা অসুস্থ এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও অপারেশন প্রয়োজন হলেও বেতন না পাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তার দাবি, শুধু তিনজন ইনচার্জের কাছেই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
অডিট প্রধান আব্দুল গাফফার বলেন, বেতন না পাওয়ায় অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা এবং সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ, পারিবারিক সমস্যার কারণে একদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেও বিষয়টির সমাধান না করে উল্টো মামলা ও হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির গাড়িচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, কারও তিন-চার মাস, আবার কারও পাঁচ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। দিন-রাত কাজ করেও সময়মতো বেতন না পাওয়ায় অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ ঋণ করে কিংবা জমি বন্ধক রেখে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সদাগর এক্সপ্রেসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এমদাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তনের সময় নতুন মালিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বেতন পরিশোধ না করে নতুন কর্মী নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এমদাদুল ইসলামের আরও অভিযোগ, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা চাওয়ার কারণে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চুরি মামলা করা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতন-ভাতার সুনির্দিষ্ট সমাধান এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।