জাজিরায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের আগেই শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ তদন্তের দিন মানববন্ধন, নিরাপত্তার কারণে স্থান পরিবর্ত
প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ তদন্তের আগেই শিক্ষকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগীরা পূর্বপ্রস্তুত একটি ফরম্যাটে স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকারের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে অভিযোগের তদন্ত করতে শরীয়তপুর পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) মো. সেলিম জাজিরায় উপস্থিত হলে তাঁকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে তদন্তের নির্ধারিত কর্মসূচি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে ২৬ অক্টোবর তদন্তের দিন নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান শরীয়তপুর পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) মো. সেলিম।
অভিযোগকারী শিক্ষকদের দাবি, তদন্ত শুরুর আগেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান শিক্ষকদের বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়ে একটি নির্ধারিত ফরম্যাটে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। ওই ফরম্যাটে অভিযোগপত্রে শিক্ষকদের নাম ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দোষ—এমন বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক দাবি করেন, প্রশাসনিক প্রভাব ও চাপের কারণে তাঁদের স্বাক্ষর দিতে হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, তদন্তের আগেই এভাবে লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করা হলে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে শিক্ষকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মো. সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে—তদন্তের আগে কীভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষে শিক্ষকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে—তিনি বলেন, কে কী করেছেন, তা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি তাঁর নির্ধারিত ফরম্যাটে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নেবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার বলেন আমার বিরুদ্ধে একটা ভুয়া পেইজ হতে বিভ্রান্তি মূলক ভিডিও ছারা হয়েছে যা আমার নয়,আমি এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থ্যা নিবো।তখন তাকে জিজ্ঞেসা করা হয় উল্লেখিত পেইজে তার নাম উল্লেখ করে কিছুই লেখা হয়নি তাহলে তিনি কেনো নিজের দাবি করছেন? সেই সাথে তিনি কেন পূর্বেই সবার থেকে চারিত্রিক সনদ নিলেন।তিনি এর কোন সদোত্তর দেন নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই, শিক্ষকদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষকরা। এখন তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।





