যমুনায় বাহারী মাছের সমারোহে জমজমাট সিরাজগঞ্জের ভোরের মাছের বাজার
ওয়াসিম সেখ,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে প্রতিদিন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ছোট-বড় নানা প্রজাতির বাহারী মাছ। আর এই মাছকে ঘিরেই ভোর হতেই নদীর পাড়ে বসে জমজমাট নিলামের বাজার, যেখানে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
ভোরের আলো ফুটতেই নদীর চর ও মাঝনদী থেকে মাছভর্তি নৌকা এসে ভিড়ে তীরে। একে একে ওঠানো হয় বোয়াল, চিতল, আইড়, ট্যাংরা, গুলশা, চিংড়ি, বাইলা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এরপরই শুরু হয় নিলাম, চলে ক্রেতাদের হাঁকডাক।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মতি সাহেবের বাঁশ ঘাট এলাকায় প্রায় ৬০ বছর ধরে রাস্তার পাশেই বসে এই মাছের বাজার। নির্দিষ্ট কোনো আধুনিক মৎস্য আড়ত না থাকলেও প্রতিদিন ভোরে এখানে ভিড় করেন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, হোটেল ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। টাটকা নদীর মাছের আকর্ষণে চাকরিজীবীরাও সকাল সকাল ছুটে আসেন এই ঘাটে।
প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বাজারে বড় আইড় বা বোয়াল মাছের দাম কেজিপ্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত, আর ছোট মাছের মিশ্রণের দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন এখানে ৭ থেকে ৮ মণ মাছ বিক্রি হয়, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, মতিন সাহেবের মাছঘাটে কাজলি, বাতাসি, বোয়াল, টেংরা, গোসাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু নদীর মাছ সহজেই পাওয়া যায়। তাজা মাছের জন্য এই ঘাটে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় লেগে থাকে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, যমুনা নদীতে দেশি মাছের যে প্রাচুর্য রয়েছে, তার একটি বড় অংশই এই ঘাটে আসে। প্রতিদিন জেলেরা রাতভর মাছ ধরে ভোরে এখানে নিয়ে আসেন। ঘাটটি উন্নত না হলেও জেলেদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, মাছঘাটটি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন করা হলে জেলেরা আরও ভালো সুবিধা পাবেন এবং ক্রেতাদের জন্যও পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা নদীতে মাছের প্রাচুর্যে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলেদের জীবিকা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে এই উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।





