মতলবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৬ শিশু
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ৪ থেকে ৫ দিনের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। তবে একজন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নঈমুল ইসলাম রাজিব বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি। তবে গতকাল একজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও ভর্তি হয়েছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জেলা সমন্বয়কারী রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরীক্ষার ফলাফল পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে, ফলে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।”
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব কিশোর বণিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। রোগটি দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত লোকজন অবস্থান না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে একজন রোগীর সঙ্গে ৩ থেকে ৪ জন স্বজন অবস্থান করেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ায় তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, অপুষ্টি এবং টিকার নির্ধারিত ডোজ সম্পূর্ণ না নেওয়ার কারণেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান বলেন, “হাম রোগীদের জন্য আমাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঁচটি শয্যা রয়েছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। শয্যা সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে বেডের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।




