সারাদেশ

অপরণের ‘নাটক’ সাজানো শিবির নেতা ধর্ষণ মামলার আসামি, ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় ছাত্রশিবির নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার লাকসাম থেকে ছাত্রশিবির নেতাকে উদ্ধারের পর শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজের একদিন পর ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে লাকসাম উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; যার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে থেকে থানায় অপহরণের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান বলে দাবি পুলিশের।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। বিয়ে না করার টালবাহানায় তিনি আত্মগোপনে থেকে থানায় জিডি করান।”

তিনি বলেন, দাউদকান্দি থানার ভুক্তভোগীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে; যাদের মধ্যে জিসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জিসানের খোঁজ নিতে কেন্দ্র থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জিসান গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে রয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

অনুসন্ধানে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেইসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এক পর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।

পরে ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ের সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতে তিনি ‘নাটক সাজিয়ে’ আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি পুলিশের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,