পলাশবাড়ীতে জমি দখল ও বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন
বায়েজিদ, পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা) :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর এলাকার নুনিয়াগাড়ী প্রফেসরপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জোহরা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে মারধর ও বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জোহরা বেগম প্রতিকার চেয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভূক্তভোগী জোহরা বেগম নুনিয়াগাড়ী গ্রামের মোজাহার আলীর স্ত্রী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ফজলে রাব্বী মিয়া ও তার ছেলে রাফাত আলীর সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে জোহরা বেগমের পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ১১ জুন দুপুর ১২টার দিকে বিবাদীরা জোহরা বেগমের বসতবাড়ির সীমানা সংলগ্ন জমির কিছু অংশ দখল করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে থাকে।
জোহরা বেগম এতে বাধা দিলে বিবাদীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে রাফাত আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন, এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। জোহরা বেগমের আর্তচিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জোহরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করার চেষ্টা করছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী এনামুল হক মকবুলের নেতৃত্বে বিবাদীরা আমাদের বাড়ীর চলাচলের রাস্তায় বাঁশের খুঁটি পুতে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমাদের পরিবারের ৫০ জন সদস্য অবরুদ্ধ অবস্থায় অমানবিক জীবনযাপন করছেন।
বিবাদীরা প্রায়ই বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং তাকে একা পেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, জমি দখল ও হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।





