শাহরাস্তিতে মেডিল্যাব হাসপাতালে আবারও প্রায় ৫ কেজি টিউমার অপসারণ, আলোচিত সেই সার্জন আরিফ
এইচ এ বাবলু।।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আবারও বড় আকারের পেটের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন আলোচিত সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান। এবার ৩৬ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) শাহরাস্তি উপজেলার মেডিল্যাব হসপিটাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে প্রায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তির টামটা উত্তর ইউনিয়নের ওই নারী প্রায় তিন মাস ধরে পেটে ফোলাভাব ও ব্যথায় ভুগছিলেন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পেটে বড় আকারের একটি টিউমার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর পেট থেকে ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমারটি অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডা. আরিফ উল হাসানকে সহযোগিতা করেন সার্জন ডা. রেজোয়ানা সুলতানা রাখি ও ডা. মোহাম্মদ জিলানী। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. পান্না লাল সাহা।
অস্ত্রোপচারের পর রোগী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারটি শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে টিউমারটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন কারণে এর আগে ওই রোগীর পেটে চারবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এবারের অস্ত্রোপচারটি ছিল তাঁর পঞ্চম অপারেশন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় টিউমার অপসারণ করেন ডা. আরিফ উল হাসান।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুন মাসে একই হাসপাতালে ২২ বছর বয়সী আরেক নারীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন তিনি।
সর্বশেষ ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের টিউমার অপসারণের ঘটনাটি একই হাসপাতালে তাঁর বড় আকারের টিউমার অপসারণের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় উল্লেখযোগ্য অস্ত্রোপচার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে এক রোগীর পায়ুপথে আটকে থাকা একটি ডাব অস্ত্রোপচার ছাড়াই বের করার ঘটনাতেও আলোচনায় এসেছিলেন ডা. আরিফ উল হাসান।
স্থানীয়ভাবে বড় আকারের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্নের এসব ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি রোগী ও স্বজনদের আস্থা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।





