সারাদেশ

থানার ভেতরেই হ্যান্ডকাফ পরা আসামির টিকটক! পুলিশ সদস্যদের সামনেই ভিডিও, পরে ফেসবুকে পোস্ট—আসামির হাতে মোবাইল গেল কীভাবে?

সাব্বির হোসাইন আজিজ,মাদারীপুরঃ মাদারীপুর সদর থানার ভেতরে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় এক আসামির টিকটক ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। থানায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সামনেই ওই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট)  দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ‘তানভীর’ নুসু নামের এক আসামি থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করছেন। তার আশপাশে থানার পুলিশ সদস্যদের অবস্থানও দেখা যায়। ভিডিওতে ডিউটি অফিসার ও একজন কনস্টেবলকে বসে থাকতে দেখা যায়। একই সময়ে সদর থানার এসআই ইব্রাহিমকে একটি চেয়ারে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়।
সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা এবং হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় থাকা একজন আসামির হাতে মোবাইল ফোন এলো কীভাবে? তিনি কীভাবে থানার ভেতরেই ভিডিও ধারণ করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ পেলেন?
ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামিদের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার ভেতরে হেফাজতে থাকা কোনো আসামির এভাবে ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় মারামারি ঘটনায়   তানভীর নুসু নামের এই যুবককে ৮ থেকে ১০ দিন আগে আটক করেন। পরে ঘটনা যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেন। পুলিশের অজান্তে ঘটনা ক্রমে ওই ছেলে তার মুঠোফোন দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে তার tiktok এ পোস্ট করেন। কিন্তু এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুঠোফোনে ফোন করে সঠিক তথ্য জানা যায়নি।
তবে একটি সূত্রে জানা গিয়েছে এ ঘটনায় পুলিশ সুপার কার্যালয় এটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলেরা জানন,আসামি যদি সত্যিই পুলিশের হেফাজতে থেকে থাকেন, তাহলে তার কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছানোর বিষয়টি কীভাবে ঘটল এবং দায়িত্বে থাকা সদস্যরা কেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করেননি এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভিডিওটি কখন, কীভাবে এবং কার মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন তারা।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজনও মনে করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্যরা জানান, আমাদের পুলিশ সদস্যের গাফলিতির কারণে আজকে ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদস্য কনস্টে করলে ইব্রাহিমের মুঠোফোনে জানার জন্য একাধিকবার ফোন করো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বিষয়ে কারা কে টিকটক করছে,  আমার জানা নেই, জেনে আমি আপনাদেরকে জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
এখন প্রশ্ন একটাই পুলিশের হেফাজতে, হাতে হ্যান্ডকাফ; তারপরও আসামির হাতে মোবাইল ফোন গেল কীভাবে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,