সাতক্ষীরায় এবারও হলোনা ৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা
মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরায় উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আনন্দঘন পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বিশ্বকর্মা ও মনসা পূজা উদযাপিত হয়েছে। তবে, বিশ্বকর্মা ও মনসা পূজা উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরার প্রায় ৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও আয়োজিত হয়নি।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের পলাশপোলে গুড়পুকুরের বটতলাস্থ মনসাতলা মন্দির কমিটির আয়োজনে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
মূলত: প্রতিবছর ভাদ্র মাসের শেষ দিনে (ভাদ্র সংক্রান্তি) এই উৎসবগুলো উদযাপিত হয়।পূজা উপলক্ষে শহরের পলাশপোল মোড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা পুণ্যার্থীরা পূজা দিতে আসেন। পূজা উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে পসরা নিয়ে ব্যবসায়ীরা আসেন কেনাবেচা করতে। কয়েক বছর ধরে এ উপলক্ষে মেলা আয়োজিত না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর আগের মতো আসেন না।
এদিকে, সর্পদেবী মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের এই দিনে সাতক্ষীরা ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলার উদ্বোধন হয়ে থাকে। তবে এ বছর মেলার কোনো উদ্যোগ নেয়নি সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এখানে বিশ্বকর্মা পূজার পাশাপাশি সর্পদেবী মনসা পূজাও একসাথে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নর-নারীরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দেন এবং নিজেদের মনস্কামনা পূরণে নানা মানত করেন। এই পূজাকে কেন্দ্র করে গুড়পুকুর পাড় ও পলাশপোল মোড় এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা মিষ্টি-মিঠাই ও হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। এছাড়া ঐতিহ্য অনুসারে বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের ভাসান গানের পালার আয়োজনও করা হয়ে থাকে। পেশাজীবিদের অস্ত্র, শিল্প ও কারিগরি নির্মাণের দেবতা হওয়ায় শহরের বিভিন্ন কল-কারখানা, গ্যারেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং সাতক্ষীরা সেলুন মালিক সমিতি-র মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজস্ব উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দের সাথে এ পূজার আয়োজন করে।





