কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি।
খন্দকার মহিবুল হক, কুমিল্লা।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুমিল্লা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন এগেইনস্ট করাপশন: টুওয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি এন্ড একাউন্টেবিলিটি (প্যাকটা)’ প্রকল্পের আওতায় ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার, সকাল ১১:৩০ মিনিটে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
সনাক কুমিল্লার এরিয়া কো-অর্ডিনেটর প্রবীর কুমার দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গুণশুনানিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সভায় স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব শাহ্ মো: আলমগীর খান। গণশুনানির লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য উপস্থাপন করেন টিআইবি সনাক সদস্য রোকেয়া বেগম শেফালী। সনাক কুমিল্লার স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটি যুগ্ম আহবায়ক ও সনাক সদস্য বদরুল হুদা জেনু পরিচালনায় গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সেবাগ্রহীতা নাজমুল হুদা ট্রলী ও এক্সরের অনিয়ম সম্পর্কে সভায় অভিযোগ করেন। অহিদা আক্তার টাকার বিনিময়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা বলেন। মনোয়ারা বেগম হাসপাতালের নিরাপদ পানির সংকটের কথা তুলে ধরেন। মিডিয়া কর্মী আবু সুফিয়ান হাসপাতালের কিছু কিছু ডাক্তার অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ করেন। এছাড়া তিনি বলেন, আউট সোসং এ কর্মরত কর্মচারিরা প্রায় ২২ মাস যাবত বেতন পাচ্ছে না। মো: তাইমুর ইসলাম ভূইয়া বলেন হাসপাতালে কর্মরত অনেকেই পোশাক ও আইডি কার্ড ব্যবহার করেন না। সেবা গ্রহীতা রোগী বহনের জন্য পর্যাপ্ত হুইল চেয়ার এর ব্যবস্থা ও এক্সরে রুমে দায়িত্বরতদের উপর নজরদারী বাড়ানোর দাবী জানান। সেবাগ্রহীতা হালিমা বলেন তিনি টাকার জন্য চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারছেন না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক কুমিল্লার জমিন এর সম্পাদক শাহজাদা এমরান বলেন হাসপাতাল হচ্ছে অসুস্থ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, তিনি সেবদাতাদের সেবগ্রহীতাদের প্রতি আরো সদয় হওয়ার অনুরোধ করেন।আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নিশাত সুলতানা পর্যাপ্ত হুইল চেয়ার ও নিরাপদ খাবার পানি দ্রুত ব্যবস্থার তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দেন। এছাড়াও তিনি রোগি কল্যান সমিতির মাধ্যমে ২ জন হতদরিদ্র সেবাগ্রহীতাকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেন। তিনি ট্রলী সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি জানান আউট সোসিং এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নির্ধারিত পোশাক ও আইডি কার্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হবে। তিনি সনাক এর সহযোগিতার বাস্তবায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।

সনাক সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই উদেশ্যে এই আয়োজন। তিনি সকল ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রমে সনাকের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। গণশুনানিতে সহকারী পরিচালক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম, সনাক সহ-সভাপতি মাহমুদা আক্তার, সনাক সদস্য ইয়াছমিন রীমা, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক কুমিল্লার জমিন এর সম্পাদক শাহজাদা এমরান, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য এ.এন. আনোয়ার পারভেজ নির্ঝর, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডাক্তার, নাসিং সুপারভাইজার, ওয়ার্ড মাস্টার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাদানকারী ও গ্রহণকারী প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, এসিজি সদস্য ও ইয়েস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




