তারাগঞ্জে গরুহাটিতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, কবজিতে গভীর ক্ষত
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে আব্দুল মজিদ (নামটি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত) নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার তারাগঞ্জ বাজারের গরুহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আব্দুল মজিদ তারাগঞ্জ বাজারের গরুহাটি এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স সামস ট্রেডার্স’ নামের রড, সিমেন্ট ও টিনের দোকানের স্বত্বাধিকারী। হামলায় তাঁর হাতের কবজিতে গভীর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে আব্দুল মজিদ তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। হামলাকারী তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাঁর হাতের কবজিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল মজিদকে উদ্ধার করে তাঁর স্বজনেরা দ্রুত তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়।
আহতের বড় ছেলে বলেন, জমিজমা নিয়ে কুর্শা ইউনিয়নের জদ্দিপাড়া এলাকার মোখলেছার রহমানের ছেলে সোহেল মণ্ডলের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, ওই বিরোধের জের ধরেই সোহেল মণ্ডল তাঁর বাবার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর হাতের কবজিতে গভীর ক্ষত হয়েছে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় বাজারের ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল মণ্ডলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, আহত আব্দুল মজিদের হাতের কবজির ক্ষত গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় তারাগঞ্জ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।





