জাতীয় সারাদেশ

তারাগঞ্জে পার্টনার কংগ্রেস মেলা নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, ‘শেখার কিছু ছিল না, শুধু স্বাক্ষর আর আনুষ্ঠানিকতা’

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘পার্টনার কংগ্রেস মেলা’ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী কৃষকরা। কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে আয়োজন করা হলেও বাস্তবে মেলাটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর এবং দায়সারা—এমন অভিযোগ উঠেছে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের পক্ষ থেকে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘বাংলাদেশে পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সহনশীলতার জন্য কৃষি ও পল্লী রূপান্তর কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাকদুম আলম, রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি কাজী শামসুল হুদা, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, মেলায় কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল কিংবা সফল কৃষি উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কার্যকর কোনো প্রদর্শনী বা প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম ছিল না। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সমাধান কিংবা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার মতো আয়োজনও চোখে পড়েনি।
আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক জাবেদ আলী বলেন, “মেলার বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতাম না। এখানে এনে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে একটি খাবারের প্যাকেট, একটি ব্যাগ ও ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিষয়ে শেখার মতো কিছু পাইনি।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন হারিয়ারকুঠি ইউনিয়নের কৃষক মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, “কৃষকদের জানার বা শেখার মতো তেমন কিছুই ছিল না। অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা আশা করেছিলাম নতুন প্রযুক্তি, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি কিংবা কৃষি সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।”


স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ ধরনের মেলায় মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রয়োজন ও বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কৃষি প্রযুক্তির প্রদর্শনী, আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ধারণা, কৃষিপণ্য বিপণন কৌশল এবং প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম থাকলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হতেন। কিন্তু এবারের আয়োজন সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
কৃষকদের অভিযোগ, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হলেও কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম ছিল না। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, “একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে।” তবে মেলা আয়োজনের জন্য কত টাকা বরাদ্দ ছিল এবং কী কী খাতে ব্যয় করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, কৃষি উন্নয়নমূলক কর্মসূচিগুলোতে প্রকৃত উপকারভোগীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সমাধান, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,