নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ: নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা পেলেন এবি পার্টির প্রার্থী
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী এস. এ. জাহিদ–এর বিরুদ্ধে।
জয়পুরহাট-২ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির ফয়সাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ ভিডিওতে এস. এ. জাহিদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. রাশেদুল আলম–কে উদ্দেশ করে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়— “জয়পুরহাট-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী একদম অপদার্থ, মূর্খ।”
কমিটির মতে, এ ধরনের বক্তব্য একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা রটনা ও চরিত্র হননের শামিল, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৫ (ক)–এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ প্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এস. এ. জাহিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়— কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না অথবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জয়পুরহাট সদর সিনিয়র সিভিল জজ ও নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এস. এ. জাহিদ এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়পুরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কালাই উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান সরকারের ছেলে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ততই গুরুত্ব পাচ্ছে—এতে প্রার্থীদের আরও সংযত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।





