মৌসুমের শুরুতেই চিংড়ি রেণুর দাম চড়া,বিপাকে চাষিরা
মোঃ খলিলুর রহমান,সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরায় চিংড়ি মৌসুমের শুরুতেই রেণুর চড়া দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। রেণু ক্রয় করে ঘেরে ছাড়ার আগেই অধিকাংশ পোনা মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের উৎপাদিত মোট চিংড়ির এক-তৃতীয়াংশই সাতক্ষীরা জেলায় উৎপাদিত হয়। জেলাটি চিংড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে আসছে। এই জেলায় আধা-নিবিড় ও সনাতনীসহ বিভিন্ন ধরনের চিংড়ির ঘের রয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে থাকা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ঘেরে এবার ৪০ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার ঘেরগুলোতে বেশির ভাগ চিংড়ির রেণু আসে মূলত কক্সবাজারের বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে। মৌসুমের শুরুতে এখনো সব হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন শুরু না হওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ কম। তাছাড়া এসব রেণু পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে পোনার গুণগত মানও কমে যায়।
বর্তমানে চিংড়ির ঘের প্রস্তুত করে রেণু ছাড়তে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ। তার ওপর রেণু জীবাণুমুক্ত কি না, তা না জেনেই অনেকটা অনুমানের ওপর নির্ভর করে ঘেরে ছাড়তে হচ্ছে। পরীক্ষণের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত রেণু সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।রেণু ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। তবে এবার হ্যাচারি মালিকদের জীবাণুমুক্ত ও ভালো মানের রেণু সরবরাহের জন্য চিংড়ি রেণু সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
স্থানীয় হ্যাচারি মালিক ডা. আবুল কালাম বাবলা জানান, ভরা মৌসুমে চাহিদার তুলনায় রেণু পাওয়া যাচ্ছে না। কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসা রেণু পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা না করায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমুদ্রের লোনা পানি কিনে ব্যবহার করতে হয় বলেই রেণুর উৎপাদন খরচ ও দাম বাড়ছে। রফতানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন বাড়াতে সরকারের কাছে সমুদ্রের পানি বিক্রি বন্ধের দাবি জানান এই হ্যাচারি মালিক।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বলেন, ‘সব হ্যাচারি থেকে রেণু সরবরাহ শুরু হলে দাম কমে আসবে।’জীবাণুমুক্ত রেণুর বিষয়ে তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পিসিআর ল্যাবের সব যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে এসে গেছে। শুধু একজন টেকনিশিয়ান পেলেই এই ল্যাবে রেণু পরীক্ষণের কাজ শুরু হবে।





