সারাদেশ

সাতক্ষীরায় দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরী হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা

মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::

দেবী দুর্গার আগমনী বার্তাকে ঘিরে সাতক্ষীরার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এর মধ্যেই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগে আলোচনায় এসেছে সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপ।এবার এই মণ্ডপে প্রচলিত মাটি কিংবা খড়ের বাইরে ভিন্ন উপকরণে তৈরি হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা। দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং ১০ কেজিরও বেশি রঙিন রেশমি সুতা ব্যবহার করে সাজানো হচ্ছে দেবীর প্রতিমা। যে দিয়াশলাই কাঠি সাধারণত আগুন জ্বালাতে ব্যবহৃত হয়, শিল্পীর সৃজনশীলতায় সেই কাঠিই এবার রূপ নিচ্ছে দেবীর অলংকার ও প্রতিমার নান্দনিক কারুকাজে।প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন চারজন কারিগর। এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে কাঠি ও রেশমি সুতার নকশা ফুটিয়ে তুলছেন। কারুকাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিমায় রঙের প্রলেপ দেওয়া হবে। তখনই পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা।প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, ২০২৩ সালে ভারতে গিয়ে একটি কারখানায় দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কৌশল শেখেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এবার সাতক্ষীরায় নতুন কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর তারা মোট চারটি প্রতিমা তৈরি করছেন। এর মধ্যে দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরি প্রতিমাটিকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে। কাঠির বারুদ নিয়ে উদ্বেগেরও কারণ নেই বলে জানান তিনি। তার দাবি, বিশেষ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ এবং দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার কারণে কাঠির বারুদের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে।ব্রহ্মরাজপুর পূজা মণ্ডপে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। গত বছর ধান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল দুর্গা প্রতিমা। সেটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এসেছিলেন। সেই সাড়া থেকেই এবার আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ব্রহ্মরাজপুর শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির ক্যাশিয়ার অমিত ঘোষ।
তিনি জানান, শুধু শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাবদ এবার প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।প্রতিমার কাজ শেষ হওয়ার আগেই মণ্ডপে কৌতূহলী মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এসে দেখছেন কীভাবে একের পর এক দিয়াশলাই কাঠি ও রঙিন সুতা দিয়ে দেবীর প্রতিমার অলংকার ও নকশা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি ও ভিডিও। দর্শনার্থীদের মতে, গত বছরের ধানের প্রতিমার পর এবার দিয়াশলাই কাঠির প্রতিমাও নতুনত্বের কারণে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, গত বছর ব্রহ্মরাজপুরের ধানের প্রতিমা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এবার দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে। তাঁর আশা, এটি দেখতে সাতক্ষীরার বাইরের দর্শনার্থীরাও আসবেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে জেলায় ৫৮৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৬০০ ছাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।জেলার শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, দেবহাটা, আশাশুনি, তালা ও কলারোয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ। এরই মধ্যে ব্রহ্মরাজপুরের ব্যতিক্রমী প্রতিমা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি শিল্পীদের সৃজনশীলতায় এবারের দুর্গোৎসবে সাতক্ষীরায় যোগ হতে যাচ্ছে নতুন এক মাত্রা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,