রাজনীতি

হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা—কলিম উদ্দিন মিলনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই

তানভীর আহমদ জাকির, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের বিএনপির রাজনীতিতে যেসব নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপির যে বড় ধরনের বিজয় এসেছে, তার মধ্যে সুনামগঞ্জের ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনার দাবি রাখে। আর সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের বিজয়কে শুধু একটি নির্বাচনী জয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম, সাংগঠনিক ভিত্তি, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মানুষের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

একটি আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস

ছাতক ও দোয়ারাবাজার নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৫ আসনটি সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন। এই আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি এখানে জয় পেয়েছে। অর্থাৎ এই আসন কোনো একটি দলের চিরস্থায়ী ঘাঁটি নয়; বরং এখানকার মানুষ প্রার্থী, নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সময়ের বাস্তবতা বিবেচনা করেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির কলিম উদ্দিন বিজয়ী হন। একই বছর জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মুহিবুর রহমান মানিক জয়লাভ করেন। এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবারও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পান।

এরপর দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা এবং নানা রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় সংকটের সময়েও তিনি সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রকাশিত রাজনৈতিক প্রতিবেদনগুলোতেও দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

২০২৬ সালের বিজয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের বিজয় তাই কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর তৃণমূলের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া একটি নতুন ম্যান্ডেট। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়েছেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল প্রমাণ করে—ছাতক ও দোয়ারাবাজারের মানুষ তাকে শুধু একজন দলীয় নেতা হিসেবে দেখেননি; তারা তাকে তাদের এলাকার একজন পরিচিত রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবেও গ্রহণ করেছেন। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার পদ-পদবি নয়, মানুষের আস্থা। আর মানুষের সেই আস্থা অর্জন করতে বছরের পর বছর মাঠে থাকতে হয়। সুখের সময়ে পাশে থাকা সহজ, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই একজন নেতার প্রকৃত পরীক্ষা। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—দলের দুঃসময়ে তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি।

 

শুধু সংসদ সদস্য নয়, একজন পরীক্ষিত সাংগঠনিক নেতা

একজন মন্ত্রী হওয়ার জন্য শুধু নির্বাচনে জয়লাভ করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক চিন্তাভাবনা, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা, দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা। আমার বিবেচনায় কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মধ্যে এসব যোগ্যতার অনেকগুলোই বিদ্যমান। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে তাকে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার পর হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভ্যর্থনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে ছাতক-দোয়ারাবাজারে সাংগঠনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করেছেন। এমনকি দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার পরও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার বিষয়টি সামনে এসেছে। এগুলো একজন নেতার সাংগঠনিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

 

হাওরাঞ্চলের মানুষের কথাও ভাবতে হবে

সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি বিশেষ ভৌগোলিক বাস্তবতার জেলা। হাওর, নদী, সীমান্ত, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই জেলার মানুষের রয়েছে আলাদা চ্যালেঞ্জ। বর্ষাকালে অনেক এলাকা পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কৃষকের জীবন প্রকৃতিনির্ভর। অনেক শিক্ষার্থী ভালো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। চিকিৎসার জন্য মানুষকে ছুটতে হয় জেলা বা বিভাগীয় শহরে। কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জায়গা কিংবা বিদেশমুখী হয়। ছাতক আবার শিল্পাঞ্চল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে ছাতকের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। অন্যদিকে দোয়ারাবাজারের বিশাল জনগোষ্ঠী কৃষি, মৎস্য, প্রবাসী আয় ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এমন একটি জেলার জন্য একজন শক্তিশালী, অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও সুনামগঞ্জের প্রত্যাশা

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেয়েছেন। অনেক জেলা বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পেয়েছে। কিন্তু সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা এখনো পূর্ণতা পায়নি—এই জেলার একজন যোগ্য রাজনৈতিক নেতাকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা। সেই জায়গা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে আমাদের বিনীত প্রশ্ন—

হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা কি একবার বিবেচনা করা যায় না?

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের জনগণ যে নেতাকে বিপুল ভোটে সংসদে পাঠিয়েছেন, যিনি দীর্ঘদিন দলীয় সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন—তাকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে তার সক্ষমতা যাচাই করা যায় না? এটি শুধু একজন ব্যক্তির জন্য দাবি নয়। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে মন্ত্রী করার দাবি শুধু তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি নয়। এটি সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবিও। কারণ একজন মন্ত্রী যখন একটি জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন সেই জেলার মানুষের সমস্যাগুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণের টেবিলে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

 

আমরা চাই—

হাওরের মানুষের কথা জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হোক। সুনামগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হোক। হাওর রক্ষা ও টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হোক। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হোক। ছাতকের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হোক। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক। প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হোক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সুনামগঞ্জের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জাতীয় গুরুত্ব পাক। আর এসব দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকে, তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন সময়েই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়। সুখের সময়ে অনেকেই পাশে থাকে। কিন্তু দলের দুঃসময়ে যখন নেতাকর্মীরা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন, তখন যারা তাদের পাশে থাকেন, তারাই প্রকৃত অর্থে পরীক্ষিত নেতা।

কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এমন অনেক প্রতিকূল সময় এসেছে। তারপরও তিনি সংগঠনের সঙ্গে থেকেছেন, মাঠে থেকেছেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন—এমন দাবিই তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বক্তব্য। রাজনীতিতে মূল্যায়ন শুধু পদ দেওয়ার মাধ্যমে হয় না; একজন পরীক্ষিত নেতাকে আরও বড় দায়িত্ব দিয়ে তার যোগ্যতাকে কাজে লাগানোও রাজনৈতিক মূল্যায়নের অংশ।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি থেকে প্রশাসনিক সমন্বয়—নেতৃত্বের আরেকটি পরীক্ষা

বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ নিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের অভিযোগ, অসন্তোষ কিংবা আন্দোলনের খবর পাওয়া গেলেও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করা নয়; বরং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ সহজ করা, মানুষের অসন্তোষের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখা।এখানেও কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মতো অভিজ্ঞ নেতার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সামনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আপনার হাত দিয়ে আসবে। সেই সিদ্ধান্তের তালিকায় হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাটিও বিবেচনা করুন। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে দেখুন। একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা, দীর্ঘদিনের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন—সেটি প্রমাণ করার সুযোগ তাকে দেওয়া হোক। মানুষ পৃথিবীতে দুইশ বছরের জন্য আসে না। জীবনের একটি সীমিত সময়ের মধ্যেই মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। একজন মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তার যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে তিনি আরও বড় পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পান। মৃত্যুর পর সম্মান দেওয়া যায়, স্মরণ করা যায়; কিন্তু দায়িত্ব দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। তাই সময় থাকতে যোগ্যতার মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জের মানুষ একটি স্বপ্ন দেখতে চায় আমরা এমন একটি দিন দেখতে চাই— যেদিন সুনামগঞ্জের কোনো নেতা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, জাতীয় সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেশের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। যেদিন হাওরের কৃষকের কথা মন্ত্রিসভার টেবিলে আরও জোরালোভাবে উঠবে। যেদিন সুনামগঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বড় পরিসরে গ্রহণ করা হবে। যেদিন ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষ বলবে—আমাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। আমরা মনে করি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন একজন সম্ভাবনাময় ও পরীক্ষিত নাম। সিলেট বিভাগের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের যেমন বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তেমনি সুনামগঞ্জের এই জনপ্রিয় নেতাকেও জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হোক—এটাই আজ ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসীর প্রত্যাশা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের কথা বিবেচনা করুন।
ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনা করুন। একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘ পথচলা ও অবদানের কথা বিবেচনা করুন। কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করুন। হয়তো এই একটি সিদ্ধান্ত শুধু একজন নেতাকে মূল্যায়ন করবে না—বরং একটি অবহেলিত জনপদের মানুষের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করবে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলও জাতীয় নেতৃত্বে তার যোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেখতে চায়। এটি কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ সমর্থনের দাবি নয়; এটি একজন পরীক্ষিত নেতার যোগ্যতা কাজে লাগানোর এবং একটি জনপদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে সম্মান করার আবেদন। সময় এসেছে সুনামগঞ্জকে মূল্যায়ন করার। সময় এসেছে হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার। সময় এসেছে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে আরও বড় দায়িত্বে দেখার। ইনশাআল্লাহ, যোগ্যতা ও দায়িত্বের সমন্বয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়েও সুনামগঞ্জের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করবেন—এটাই আমাদের বিশ্বাস। সুনামগঞ্জের জন্য একটি মন্ত্রণালয়—এবার সময়ের দাবি।

  • লেখক-
    তানভীর আহমদ জাকির
  • তরুণ সংগঠক, লেখক ও সাংবাদিক
  • সভাপতি, ছাতক উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাব।
  • (১৪ আগষ্ট ২০২৬ শুক্রবার)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

রাজনীতি

সংস্কার করতে সময় যত বেশি যাবে, সমস্যা তত বেশি হবে: মির্জা ফখরুল

একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, তা দ্রুত করার তাগিদ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাজনীতি সারাদেশ

এবার প্রকাশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি।

খন্দকার মহিবুল হক, কুমিল্লা। এবার প্রকাশ্যে আসলো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারি। শিবিরের আয়োজনে নবীন বরণ