অপপ্রচারের অভিযোগ, বিএনপি নেতা সরদার জাহিদের নিন্দা ও প্রতিবাদ
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পদ্মনগর এলাকায় আট বছর বয়সি এক মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনার সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরদার জাহিদের নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি ‘দৈনিক খবরের কাগজ’ ও ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ জুন পদ্মনগর এলাকায় এক দোকানদার কর্তৃক ওই মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে সরদার জাহিদের নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়া হয়েছে।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরদার জাহিদ গণমাধ্যমের কাছে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “সংবাদটিতে আমার নাম জড়িয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) হেয় করার হীন উদ্দেশ্যে এই মনগড়া সংবাদের পরিকল্পনা করেছে। আমার সাক্ষাৎকার বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
সরদার জাহিদ স্পষ্ট করেন, ওই মাদরাসাটি তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর পরিচালনা বা স্থানীয় সালিশি বৈঠকের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। যদি কোনো অসাধু মহল তার নাম ব্যবহার করে থাকে, তবে তার দায়ভার তিনি নেবেন না। তিনি বলেন, “আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারে আমি বিশ্বাসী। শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্তের আগেই আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। আমাকে বিতর্কিত করার মাধ্যমেই মূলত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার পায়তারা চলছে।”
ঘটনাটি ‘ধর্ষণ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সরদার জাহিদ।
অন্যদিকে, মাদরাসার মোহতামিম ইমরান হোসেন জানান, “সরদার জাহিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমার সাথে কোনো কথা হয়নি। সালিশি বৈঠক করা আমাদের কাজ নয়, এসব বিষয় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার।”
এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি সংবাদটি দেখেছি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা নেওয়া বা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ওপর কেউ কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করেনি। ভুক্তভোগীদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা, তারা যেকোনো সময় এসে মামলা করতে পারেন।”
এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরদার জাহিদ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।





