চিরিরবন্দরে শেষ মূর্হুতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা,উপচে পড়া ভিড়।
এনামুল মবিন(সবুজ)
স্টাফ রিপোর্টার.
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রমজানের শেষভাগে এসে উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও শিশুদের খেলনার দোকানগুলোতে বেশি ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরজমিন বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মার্কেটে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যস্ততা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই আগে কেনাকাটা করতে পারেননি। ফলে শেষ মুহূর্তেই বাজারমুখী হচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫ রমজানের পর থেকে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানে টেইলার্সের দোকানগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের ঈদে বাজারে তুলনামূলকভাবে দামি ও কিছুটা গর্জিয়াস পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য নকশা করা থ্রি-পিস ও ভারী কাজ করা পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। অনেক ক্রেতাই ঈদের দিনকে বিশেষভাবে উদযাপন করতে একটু ভালো ও দৃষ্টিনন্দন পোশাকই বেছে নিচ্ছেন বলে জানান দোকানিরা। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে এসব পোশাকের বিক্রি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ লক্ষণীয়। ঈদকে কেন্দ্র করে এবারও কাপড়ের দোকানগুলোতে ভালো বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কাপড়ের দোকানগুলোতে নারীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
উপজেলার ফতেজংপুর এলাকার চম্পাতলী বাজারের চম্মা বস্ত্রালয় এর মালিক মোঃ রমজান আলী শাহ্ বলেন, ঈদ মানেই নারী-শিশুদের কেনাকাটা বেশি। আশা করছি গত বছরের তুলনায় এবছরও বিক্রি ভালো হবে।
রানীরবন্দর আব্দুল বারী সুপার মার্কেটের তৌফিক বস্ত্রালয় এন্ড গার্মেন্টসের মালিক মোঃ গোলাম রব্বানী, ঘুঘুরাতলী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মমিদুল, চিরিরবন্দর স্টেশন রোড বাজারের আসাদুল হক জানান, পোশাকের দাম হাতের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে পুরুষদের শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবী বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নতুন ডিজাইনের শার্ট ও জিন্স প্যান্টের চাহিদা বেশি। নারীদের ঈদের পোশাকে এবার ভারতীয় পোশাকের দাম একটু বেশি। আশা করছি, ভালোই বিক্রি হবে।
মবিন নামের এক ক্রেতা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি হলেও ঈদের আনন্দের কথা ভেবে পরিবারের সদস্যদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন তারা। নিম্নআয়ের অনেক পরিবার কিস্তিতে বা ধার করে হলেও প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে বাজারে আসছেন বলেও জানান তিনি।
কেনাকাটা করতে আসা আফিয়া ফারজানা শিউলিসহ কয়েকজন বলেন, সারাবছর ঈদের জন্য অপেক্ষা করি। পরিবারের সবার জন্য নতুন কাপড় কিনে দিতে পারলেই ঈদের আনন্দটা পূর্ণ হয়। ছেলেমেয়েদেরসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক ক্রয় করতে এসেছি। ঈদুল ফিতরের দিন যতই এগিয়ে আসবে ততই মার্কেটে ভিড় বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও উপজেলার ভূষিরবন্দর, চম্পাতলী, বিন্যাকুড়ি, চিরিরবন্দর, আমতলী বাজারে বিভিন্ন বিপণি বিতানে নারী-পুরুষ ও শিশুদের উঁপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গছে।





