জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যের মঞ্চ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয়ে মুখর তারাগঞ্জ
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদযাপিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক আবহে বিভিন্ন আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এই গণঅভ্যুত্থান গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনা পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি ঘটনা নয়; এটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রতিটি গণআন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আদর্শ বাস্তবায়ন করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। একই সঙ্গে তারা দেশপ্রেম, সামাজিক সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সকলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা এবং তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শিপু, বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাকদুম আলম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলমগীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামী যুববিভাগের সভাপতি কাজী সামছুল হুদা এবং সংসদ সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিবসটির আয়োজন হয়ে ওঠে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও সাফল্যমণ্ডিত।
দিবসটির আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, জাতীয় ঐক্য এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।




