জাতীয় সারাদেশ

তারাগঞ্জে আলোচিত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের জোরালো অভিযান, গ্রেপ্তার দুই আসামি

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ইলেকট্রিশিয়ান মনজুরুল ইসলাম হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা আসামিদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৫ মার্চ) বগুড়ার গোকুল এলাকা থেকে রাফিউর রহমান লাবলু (৩২) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) তারাগঞ্জ উপজেলার জদ্দিপাড়া এলাকা থেকে অপর আসামি মাজেদুল ইসলামকে (৩২) আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাফিউর রহমান লাবলু তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেন মকবুলের ছেলে। অপর আসামি মাজেদুল ইসলাম একই উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ জদ্দিপাড়া গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত মনজুরুল ইসলাম পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।
এদিকে কয়েকদিন পর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মাজার সংলগ্ন একটি আলুর ক্ষেতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মনজুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রথমে মাজেদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে রবিবার বগুড়া জেলার গোকুল এলাকা থেকে অপর আসামি রাফিউর রহমান লাবলুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, মনজুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে রংপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,