দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা

মোঃমোমিনুল ইসলাম
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলার অভিযোগে আদালতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অধ্যাপক জেসমিন চৌধুরীর বীরগঞ্জ উপজেলার শীতলাই গ্রামের নিজ বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় গত ১৬ আগষ্ট বীরগঞ্জ সিনিয়র চীফ জাডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে গোলাম সারওয়ার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলা নং সিআর-৪১৫/২৬ । বিচার মামলাটি গ্রহণ করে বীরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জকে তদন্ত করে আগামী ৬ আক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামীরা হলেন,মোছাঃ শারমিন মাহবুব (৫২), মোঃ মাহবুবুর রহমান (৪২), মোছাঃ মুক্তা বেগম (৪০), সাজিদুর রহমান সাজু (৩২), শ্রী চন্দন রবি দাস (৩২), মোঃ মুন্না (৩৫), মোঃ নবেল (৪১), মোঃ মতিউর রহমান (৪৮) ও মোছাঃ রফিকা (২৮)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারের বিবরনে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বীরগঞ্জ উপজেলার শীতলাই গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন অধ্যাপক জেসমিন চৌধুরী। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে উক্ত আসামিরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করেন। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আসামি মোছাঃ শারমিন মাহবুবের নির্দেশে মোঃ মাহবুবুর রহমান অধ্যাপক জেসমিন চৌধুরীকে মারধর শুরু করেন। এ সময় অন্য আসামিরাও তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা, কালশিরা ও জখম হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তার চিৎকার শুনে উপস্থিত সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহত অধ্যাপক জেসমিন চৌধুরীকে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
মামলার সাক্ষীদের দাবি,অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে জাল দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরির অভিযোগও রয়েছে বলে তারা জানান।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




