জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ

বাগেরহাটে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপি নেতাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।

অভিযোগ উঠেছে পরিকল্পিতভাবে চিতলমারী থানা পুলিশ একজনকে আটক করে পার্শ্ববর্তী কচুয়া থানায় পূর্বের এক মামলায় আটক দেখিয়ে কচুয়া থানার মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যাক্তি চিতলমারী হিজলা ইউনিয়নের কাউসার মোল্লার ছেলে সোহেল ওরফে চান। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয় দলীয় কোন্দল ও জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নে মারামারির ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। সেই মামলায় ২ নং আসামি সোহেল ওরফে চান দীর্ঘদিন কারা ভোগের পরে গত ১২ আগষ্ট জামিনে মুক্তির পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেওয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে রেল রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চিতলমারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা থানা পুলিশকে অনুরোধ করেন, যেন তাকে কোনো মিথ্যা মামলায় জড়ানো না হয়। কিন্তু চিতলমারী থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা কৌশলে তাকে কচুয়া থানায় নিয়ে আসেন বলে তার নিকট আত্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন। তথ্য সূত্রে জানাযায়, ঐ দিন গভীর রাতে তাকে কচুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে যোগসাজশে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি পেন্ডিং মামলায় তাকে জড়িয়ে চালান দেওয়া হয়েছে । এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শামীম আহমদ খান বলেন, তাকে পরিকল্পিত ভাবে আটকের ঘটনা সঠিক নয়। আটক ব্যক্তি আমাদের পুলিশ নজরদারির মধ্যে ছিল। গত ৬ মার্চ একটি মামলায় অভিযুক্ত আসামী সন্দেহে তদন্তপূর্বক দোষী প্রমাণিত হওয়ায় চিতলমারী থানার মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে কচুয়া থানায় মামলা নাম্বার ৪, জিআর -২৫। মামলার নথি অনুযায়ী জানা যায়, ৬ মার্চ কচুয়া উপজেলার দোবাড়িয়া এলাকার সুলতান সরদার এর ছেলে মোতালেব সরদার (৫০) বাদী হয়ে ৪৩ জন নামীয় ও ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ পূর্বক বিস্ফোরক আইনে কচুয়া থানা একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন এসআই জামিনুর। উক্ত মামলার অজ্ঞাত তালিকা থেকে সোহেল ওরফে চানকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৩ আগস্ট জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সাইফুল মোল্লা বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার। চিতলমারী উপজেলার একটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্র করে আমাকে, আমার ভাইসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় আমার ভাই গতকাল আদালতের জামিনে মুক্তি পায়। কিন্তু জামিনে মুক্তির পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দেওয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কচুয়া থানার একটি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি, মামলাটি কচুয়ার সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত নাশকতা বা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা মামলা। যে মামলাটি বেশ বিতর্কিত। ওই মামলা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। আমার ভাই ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। এমনকি সে কখনও ওই এলাকায় যায়নি। তাকে ভুলভাবে আসামি বানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আমাদের চিতলমারী উপজেলার ৩ নং হিজলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী দলের নবগঠিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,