বাগেরহাট বিএনপি: অসুস্থ রাজনীতির গ্যারাকল ও নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা
উজ্জ্বল কুমার দাস,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি|
বাগেরহাটের রাজনীতিতে বর্তমানে এক অস্থির সময় অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। যে জনপদে বিএনপির ভিত্তি ছিল সুদৃঢ়, আজ তা যেন ‘অসুস্থ রাজনীতির’ এক গোলকধাঁধায় বন্দি। এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে নেতৃত্বের বিভাজন, ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং নগ্ন গ্রুপিং।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির এই সংকটের শুরুটা হয়েছিল মূলত জেলা সভাপতির পদ থেকে এম এ ছালামের ছিটকে পড়ার মধ্য দিয়ে। নেতৃত্বের এই পালাবদলকে কেন্দ্র করে যে ফাটল ধরেছিল, সময়ের সাথে তা সংকীর্ণ ব্যক্তি-স্বার্থে রূপান্তরিত হয়ে নগ্ন গ্রুপিংয়ে রূপ নিয়েছে। ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিমের সক্রিয়তা নতুন সমীকরণ তৈরি করে। ফলে দল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে আরও গভীর অস্থিরতায় নিমজ্জিত হয়।
বাগেরহাট সদর ও কচুয়া নিয়ে গঠিত ২ আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ‘ভাই বনাম ভাই’ দ্বন্দ্ব ছিল জেলার রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসনে দলের হাইকমান্ড নতুন মুখ ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেনকে মনোনয়ন দিলেও, দৃশ্যপটে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দেখা গেছে অদ্ভুত এক আত্মঘাতী কৌশল। একদিকে এক ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন, অন্যদিকে অন্যজন পর্দার আড়াল থেকে সেই দেয়ালকে আরও মজবুত করলেন। এই তথাকথিত ‘অসুস্থ গ্যারাকলে’ আটকেই মূলত এই আসনে বিএনপির পরাজয় ত্বরান্বিত হয়।
বর্তমানে সাধারণ কর্মীরা এক ভয়াবহ মরণ ছোবলের মুখে পড়েছেন। তারা দেখছেন, দলের নেতারা একে অপরের চরিত্র হননে ব্যস্ত। আত্মসমালোচনা বা ভুল বোঝাবুঝি অবসানের কোনো উদ্যোগ নেই; বরং নেতারা একে অপরের প্রতি হয়ে উঠেছেন হিংসাত্মক ও আত্মঘাতী। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপির আদর্শিক লড়াইকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করছে বিরোধী শিবিরকে।
“রাজনীতি যখন জনসেবা ছেড়ে ব্যক্তি-স্বার্থে লিপ্ত হয়, তখন কর্মীরা দিশেহারা হয় আর প্রতিপক্ষ সুযোগ পায়।”
বাগেরহাট বিএনপিকে এই গ্যারাকল থেকে মুক্ত করার চাবিকাঠি সাধারণ কর্মীদের হাতে নেই, বরং এটি আছে শীর্ষ নেতাদের হাতে। নেতাদের বুঝতে হবে যে, এই অসম প্রতিযোগিতা এবং দলীয় বিভেদ বজায় থাকলে তারা তাদের নেতৃত্ব হারাবেন। জনগণের আস্থা হারিয়ে একসময় তারা ক্ষমতার মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ে জনতার কাতারে গিয়ে দাঁড়াবেন।
জনমনে প্রশ্ন নেতৃত্বের অহংকারে কি তবে ধ্বংসের পথে বাগেরহাট বিএনপি
এখনই সময় অহংকার ও স্বার্থ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। অন্যথায় ইতিহাসের পাতায় বাগেরহাট বিএনপির এই অধ্যায়টি শুধু পরাজয় আর বিভাজনের গল্প হিসেবেই লেখা থাকবে।





