সনাক কুমিল্লার উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন।
খন্দকার মহিবুল হক, কুমিল্লা।
“জ্বীবাশ্মভিত্তিক উৎস থেকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের জন্য একটি সময়োপযোগী ও সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন দাবী”
পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন: এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপের’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি কুমিল্লার উদ্যোগে ১০ জুন ২০২৬ বুধবার রঘুপুর শহীদ মানিক মালেক স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আবদুল জলীল এর সঞ্চালনায় ও প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার পালের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিলার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহ্ জালাল ।
প্রধান অতিথি বক্তৃবে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহ্ জালাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি এবং জনগণের অসচেতনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তার মতে, বিশ্ব যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের পরিবেশ সুরক্ষায় দক্ষতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫, যা উদ্বেগজনক। পরিবেশ সংরক্ষণে আইন থাকলেও পরিবেশকেন্দ্রিক অপরাধ সংঘঠিত হয়েই চলেছে। নদী, খাল ও জলাভূমি নদ-নদীতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ হয়নি। প্লাস্টিক, পলিথিন এবং শিল্প-কারখানার বর্জ্য থেকে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ অব্যাহত রয়েছে। বনভূমি দখল ও উজাড়, পাহাড় কর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ আহরণ চলছেই। আইনের দূর্বলতার পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবেশসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ সীমিত। দখল, সন্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সনাক সদস্য আইরিন মুক্তা অধিকারী, বিজয় কৃষ্ণ রায়, বিধান কুমার চন্দ, সিরাজুল মাওলা সেলিম, সনজিত কুমার সিংহ ও বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান মজুমদার।
বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ফসলি জমি, খাল, বিল, নদী ও নালা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি উজাড়ের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এজন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌর, বায়ু ও পানি থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
এ ক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তারা মত দেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা এবং সব ধরনের দূষণ প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
পাশাপাশি অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন ও উপস্থিত বৃক্ততা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ইয়েস ও এসিজি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





