আওয়ামী সরকার লগি বৈঠার মাধ্যমে যে নির্মম নির্যাতন করছিল, তা থেকে আমরা ৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছি।এটিএম মাসুম
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার সমর্থনে এবং নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক এক বিশাল ‘নাগরিক সমাবেশ’ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় চিটাগাংরোড ট্রাক স্ট্যান্ড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুম। তিনি তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ তুলে ধরে আওয়ামী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মাওলানা মাসুম বলেন, “প্রিয় নবী এসেছিলেন আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়। কিন্তু তখনও আমরা দেখি নাই মানুষ মেরে নৃত্য করার মতো দৃশ্য। আওয়ামী সরকার লগি বৈঠার মাধ্যমে যে নির্মম নির্যাতন করছিল, তা থেকে আমরা ২৪ সালের ৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছি।”
তিনি নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন এবং একই দিনে জুলাই সনদের হা-না ভোট হবে, আমরা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড লাগবে। আমরা নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছি। নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে আপনারা চ্যালেঞ্জ করেছেন, এই চ্যালেঞ্জ আপনাদেরই মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মানুষের কোনো আইন দিয়ে দেশ চলতে পারে না, একমাত্র আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন দিয়েই চালাতে হবে।” তিনি কোরআনের ফর্মুলা তুলে ধরে বলেন, ১. নামাজ, ২. যাকাত, ৩. ভালো কাজ চালু রাখা এবং ৪. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া—এই ফর্মুলা অনুযায়ী না চললে বাংলাদেশে শান্তি আসবে না।
সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর থানা আমীর মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া তার নির্বাচনী এলাকার জন্য উন্নয়নের রূপকল্প বিস্তারিতভাবে পেশ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে এলাকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই মাটিতে ফয়সাল শহীদ হয়েছেন, এই মাটি উর্বর।” তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং জনকল্যাণে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট করে প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড়দের বলেছেন, ‘আসেন খেলা হবে’।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, “প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে ওসমান হাদীর ওপর গুলি করে! অতীতে যারা আমাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাদের বাঁধা দিয়েছিল, আমরা তাদেরকে তাড়িয়েছি। সুতরাং ভবিষ্যতে আর কেউ বাঁধা দেওয়ার চিন্তা ও করবেন না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”
অন্যান্য বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একটা দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন, আল্লাহর দেয়া দ্বীন মতো চলতে হবে। যেহেতু আমাদের দেশে সঠিক দ্বীন নাই, এজন্য ন্যায়ের আদেশ অন্যায়ের নিষেধ এবং রাসূলের কথা অনুযায়ী চলবেন।”
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাইদ মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর মজলিসে সূরা সদস্য মুহাম্মদ জাকির হোসাইন ও আবুল কালাম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ এবং এলাকার উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ছাত্র শিবিরের সার্বিক সহযোগিতায় এবং সাইফুল ইসলাম রনি ও আসাদুজ্জামান রাকিবের
সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সোনারগাঁ উত্তর থানা আমীর ইছাহাক মিয়া, জামায়াত নেতা এড. মাঈনুদ্দিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিণ থানার আমীর কফিল আহমেদ সহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সমাবেশটি এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণে মুখরিত ছিল।





