৫৮ কোটি টাকার লোকসানের চাপ নিয়ে জয়পুরহাট সুগার মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন কার্যক্রম শুরু
জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) স্টাফ রিপোর্টার।
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও প্রায় ৫৮ কোটি টাকার লোকসানের চাপ সত্ত্বেও উৎপাদন কার্যক্রম চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জয়পুরহাট সুগার মিল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে মিল প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়পুরহাট সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দীন মোল্যা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহায়তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূর (এনডিসি)।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূর ক্যান ক্যারিয়ারে (আখের ডোংগা) আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে ২০২৫–২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, “লোকসান সত্ত্বেও উৎপাদন চালু রাখা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি এই অঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার সাথেও জড়িত। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে মিলকে লাভজনক করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এম. এ. কামাল বিল্লাহ এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ। এছাড়াও মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে মোট ৫৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ২৫ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর আখ থেকে চিনি আহরণের হার বা রিকভারি রেট ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রাথমিকভাবে মিলটি ৪০ কর্মদিবস চালু রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সময়মতো আখ সরবরাহ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আখ মাড়াই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, জয়পুরহাট অঞ্চলের হাজারো আখচাষি ও মিল-নির্ভর শ্রমিকের জীবিকা এই মিলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ফলে লোকসান সত্ত্বেও উৎপাদন কার্যক্রম চালু হওয়ায় আখচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।




