চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি ও ষড়যন্ত্র: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গৃহবধূর মামলা
চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি ও ষড়যন্ত্র: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গৃহবধূর মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, ফেনী
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় এক গৃহবধূর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, তা না দেওয়ায় হুমকি, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
মামলার এজাহার (মামলা নং DCR-833) সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাংবাদিক নিয়মিত হুমকি দিয়ে বলেন “আমার কথা না শুনলে তোকে শান্তিতে থাকতে দেবো না, জেলের ভাত খাওয়াবো।”
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে বলেন এসপি, ডিসি, ওসি—সবই আমার প্যান্টের পকেটে থাকে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে চরম মানসিক চাপে রাখা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদা না পাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর আবদুল নদী গ্রামে তার বসতঘরের সামনে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে।
এজাহারে বলা হয়, হামলার সময় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরা হয়, তার কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় তাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশুসহ মোট ৫ জনকে আসামি করে দাগনভূঞা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি সুরক্ষা চান তিনি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিত ভাবে এই মামলা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





