বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা মাছের চালান জব্দ
জাকির হোসেন,বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি:
বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা উচ্চ শুল্কর মূল্যের ভারতীয় রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার রাত ১০টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি জব্দ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার সময় জব্দকৃত মাছ নিলামে বিক্রয় করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, চালানটিতে সামুদ্রিক মাছ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে রুই মাছ আমদানি করা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে কম মূল্যের ও ভিন্ন প্রজাতির মাছ উল্লেখ করলেও তল্লাশিতে উচ্চমূল্যের মাছ পাওয়া যায়। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার ‘সাজ্জাত এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ‘আলেয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম পাওয়া গেছে।
এর আগেও গত ১৩ জানুয়ারি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশ মাছের একটি চালান আটক করা হয়। ওই ঘটনায়ও একই সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে ভিন্ন প্রজাতির মাছ আনা হয়েছে। পরে ভারতীয় একটি মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০টি প্যাকেজে মোট ৬০০ কেজি রুই মাছ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। কয়েকটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের নাম অনিয়মের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। চিহ্নিত শুল্কফাঁকিবাজদের মধ্যে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আলেয়া এন্টার প্রাইজ, রয়েল এন্টার প্রাইজ ও লিংক ইন্টারন্যাশনাল আলোচিত। এসব অনিয়মের সঙ্গে কাস্টমসের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের লাইসেন্স রক্ষা করে আবারও ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ মাছগুলি ৬৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের নিলামকারী মোস্তাফিজুর রহমান বাবু।





