পঞ্চগড়ে এসপির প্রেস ব্রিফিং ডাকাতির ঘটনায় ৬ আসামী আটক
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার মফিজার রহমার কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল্লাহর বাড়ীতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
৫ মার্চ শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ডাকাতির ঘটনায় পঞ্চগড়ের জেলা গোয়েন্দা শাখা পঞ্চগড় সদর থানায় ২৭ ফেব্রুয়ারী এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন পুলিশ। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ৬ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে ১ জন আসামীর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও প্রদান করেছেন। আটককৃত আসামীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে লুন্ঠিত আলামত এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে পঞ্চগড় জেলার সদর থানার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকার মফিজার রহমার কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল্লাহর বাড়ীতে সশস্ত্র একটি ডাকাত দল ডাকাতি করে অস্ত্রের মুখে জি্ম্মি করে ঘরে থাকা ওয়্যারড্রোপ, সুকেস ও ড্রেসিংয়ের ভিতরে রক্ষিত বিভিন্ন ধরনের ২০ লক্ষ টাকার ৮ ভরি স্বর্নালংকার ও ২ লক্ষ ২০ বিশ হাজার টাকা ও একটি SYMPHONE Z72 এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
পরে পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তাৎক্ষনিক এসআই আবু হোসেন ও এসআই নাহিদ হাসান এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি টিম ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদঘাটন করে। গত ৪ মার্চ রাত ২টা হতে ৩টার মধ্যে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার গাড়াতি ছিট মহল, পুকুরীডাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত আসামী সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকার মিনহাজ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩৫), পশ্চিম মাধইপাড়া এলাকার বছির উদ্দীনের ছেলে রমজান আলী (৩০), জুগিভিটা এলাকার আবু আলমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), রাজমহল পূর্ব বাগান এলকার হাবিবের ছেলে আশিক (১৯) ও আজিজ মিয়ার ছেলে জুবায়ের (১৯) কে তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুন্ঠিত একটি স্মাট মোবাইল ফোন, একটি সিম কাড, ডাকাতি কাজে ব্যাবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট চাকু, দুইটি বড় ছোরা উদ্ধার করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে গত ৫ মার্চ রাতে তার নিজ বাড়ি হতে ডাকাতির মুল পরিকল্পনাকারী ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল্লাহর পরিবারের প্রতিবেশী ধৃত আসামী মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মোহাম্মদ আলম (৩৭) কে জিয়াবাড়ী এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোহাম্মদ আলম পঞ্চগড় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আটককৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি এবং তথ্য প্রুযুক্তির সহায়তায় জানা যায় যে, উক্ত ডাকাতির ঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারী আসামী মোহাম্মদ আলম অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। আরও জানা যায়, আটক মোহাম্মদ আলম খুব দরিদ্র লোক হওয়ায় তার সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকত। ধৃত আলম নুরুল্লাহ এবং তার ভাই এর নিকট এক বিঘা জমি বর্গা/আদি চেয়েছিলো। কিন্তু তারা তাকে জমি বগা না দিয়ে বলে যে, অন্য লোকেরা আধি করছে এখন যা পরে দিবো। নূরুল্লাহ ১৮ ফেব্রুয়ারী হজ্বে যাওয়ার সময় তার বাড়িতে ডাকাতি করার কথা প্রতিবেশী আলমের মাথায় আসে। সে কামরুলের সাথে বিষয়টা শেয়ার করলে কামরুল বলে যে, আমার লোক আছে। কোন ব্যাপার না। আমরা কিছু দিন আগে জগদলে কয়েকটা ডাকাতি করেছি। সব অপারেশনে আমরা সফল। তারপর কামরুল আলমকে সাদ্দাম, মনির, জুবায়ের ওরফে জিদান এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং ঘটনার ২ দিন আগে পরিকল্পনা করে। তারপর আলম, কামরুল, সাদ্দাম, মনির, জুবায়ের ওরফে জিদান একে একে সাদ্দামের বাড়ির পার্শ্বে রাতে এক গাছের নিচে একত্রিত হয় এবং পূ্র্ব পরিকল্পনায় ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে নুরুল্লাহ এর বাড়ির পশ্চিমে সুপারির রাগানের পার্শ্বে গ্রিল ছাড়া জানালা সাবল দিয়ে ভেঙ্গে এক এক করে তারা ঘরের ভিতর ঢুকে এবং ৪টি ঘরে কোন কিছু না পাওয়ায় ৫ নম্বর ঘর যেখানে নূরুল্লাহ এর বৌ বাচ্চা শ্বাশুড়ি ঘুমিয়েছিলো সে ঘরে ঢুকে এবং নুরুল্লাহ এর বৌকে জাগ্রত করে। আলম মুখে মুখোশ পরে ছিলো। মনির নূরুল্লাহ এর বৌয়ের গলায় চাকু ধরে, সাদ্দাম নুরুল্লাহ এর শ্বাশুড়ীর গলায় ছুরি ধরে। বড় বাচ্চাটা ঘুম থেকে উঠে কান্না করলে জুবায়ের ওরফে জিদান তার গলায় চাকু ধরে নূরুল্লাহ সাহেবের বৌকে সবকিছু বের করে দিতে বলে না হলে বাচ্চাদেরকে মেরে ফেলবে। তখন তার বৌ ভয়ে তার ব্যাগে থাকা হাতের কানের গলার স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে দেয় এবং তারা আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার বের করে নেয়। বড় বাচ্চাটার কান্না না থামলে আলম নুরু্ল্লাহ সাহেবের বৌ এর ব্যাগ থেকে কেক বের করে খাওয়ায় এরপর পানি খাওয়ায়। তারপর তারা ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে সাদ্দামের বাড়ির পার্শ্বে গাছের নিচে একত্রিত হয় এবং ওথান থেকে পাওয়া ৩০ হাজার টাকা নগদ সমান ভাবে ভাগ করে নেয়।
৭ টি ছোট ছোট স্বর্ণের জিনিস মনিরকে এবং ১২ টি বড় বড় স্বনের জিনিস কামরুলকে বিক্রি করার জন্য দেয়। বর্তমানে ধৃত আসামী সাদ্দাম, জুবায়ের ওরফে জিদান, রমজান, মজিবর এবং আশিক ২ দিনের পুলিশী হেফাজতে রয়েছে এবং ধৃত আসামী আলম জেলহাজতে রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





