সারাদেশ

শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উলাশির ‘জিয়ার খাল’ পূনঃখননে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে,যশোর জেলা প্রশাসক সহ বিএনপির নেত্রীবৃন্দরা পরিদর্শন করলেন

জাকির হোসেন, বেনাপোল(শার্শা) প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ‘জিয়ার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ভরাট হয়ে পড়া খালটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের এক জনসভায় উলাশী খাল পুনঃখননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ায় মাঠপর্যায়ে কাজেও গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক খননকাজের অগ্রগতি, মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা, খননের গুণগত মান বজায় রাখা এবং প্রকল্পটি যাতে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে-সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবিরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন, সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দ্রুত, স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল খননের সূচনা করেন। স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এই উদ্যোগে হাজারো মানুষ অংশ নেন, যা দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় খাল খনন পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি মাত্র ছয় মাসে সম্পন্ন হয় এবং ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। খালটি খননের ফলে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। এতে কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।
কালের পরিক্রমায় দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছিল এলাকাবাসী। ফলে খালটি পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা মনে করছেন, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে কৃষি, সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে এলাকায় নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,