বানারীপাড়ায় বিএনপির সম্পাদক রিয়াজ মৃধার সাহসী পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি
বানারীপাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের বানারীপাড়ায় মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুকে মাদক সহ হাতেনাতে ধরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা এলাকাবাসীর প্রসংশায় ভাসছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা এবং জনমনে জমে থাকা ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার এই সাহসী উদ্যোগ এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে মিন্টু নামে এক প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী পুরো এলাকায় এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সরবরাহের অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বারবার আইনের ফাঁক ফোকরে বেরিয়ে যেতেন। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছিল না, আর তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে মাদকের ছোবলে বিপথে চলে যাচ্ছিল। জানা গেছে
এমন এক পরিস্থিতিতে রিয়াজ আহমেদ মৃধা সরাসরি মাঠে নেমে পড়েন। স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন এবং এক পর্যায়ে মিন্টুকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪ এপ্রিল শনিবার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় মাদক কারবারি মিন্টুকে হাতেনাতে ধরে উত্তমমদ্ধম সহ কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাকে বানারীপাড়া এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ যেন এক মুহূর্তে প্রশমিত হয়। অনেকেই বলছেন, “যা প্রশাসন করতে পারেনি, তা করে দেখালেন একজন রাজনৈতিক নেতা।”
স্থানীয় অভিভাবকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ তাদের সন্তানদের জন্য এক বড় নিরাপত্তা বয়ে আনবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদী।
সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ। রিয়াজ আহমেদ মৃধার এই উদ্যোগ সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে।
তবে সচেতন মহল এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, এমন উদ্যোগকে টেকসই করতে হলে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ, নিয়মিত অভিযান এবং আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় অপরাধীদের নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। না হলে মাদকের শেকড় আবারও বিস্তার লাভ করতে পারে।
বানারীপাড়ার সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—এই অভিযান যেন এককালীন না হয়ে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। মাদকের বিরুদ্ধে গড়ে উঠুক সামাজিক প্রতিরোধ, জোরদার হোক আইনি ব্যবস্থা, আর নিরাপদ হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা জানান, গন মানুষের আস্থাভাজন নেতা বরিশাল ২ আসনের সাংসদ এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ভাইয়ের দিকনির্দেশনা মোতাবেক এ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




