তেতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন
মো,জায়েদ হোসেন,
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর এলাকায় তেতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। নদীর তীব্র খরস্রোতের কারণে আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ বেড়িবাঁধে স্থাপিত কংক্রিট ব্লক একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরে স্থাপন করা বহু ব্লক দেবে গিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও জিওব্যাগ সরে গিয়ে মূল বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টায় আউলিয়াপুর এলাকায় স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দ্রুত ব্লক সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসার পুরোনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাই দ্রুত পুরোনো ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তেতুলিয়া নদীর এ বেড়িবাঁধটি এলাকার হাজার হাজার মানুষের আবাদি জমি রক্ষা এবং নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার, স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন শিক্ষাভবন নির্মাণ করতে হবে।
এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে ব্লক সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাদি জমি রক্ষায় স্থায়ী সমাধান এবং হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।





