সারাদেশ

চুরির অপবাদে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ, বিচার নিয়ে শঙ্কায় পরিবার

ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসক-শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের পর থেকে প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা এবং পাল্টা মামলার ঘটনায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগকারী মো. জয়নাল আবেদীন জানান, তার মেয়ে আয়না খাতুন (১৮) শহরের বিএ কলেজের দক্ষিণ পাশের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ওই বাসায় বসবাস করেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলি ও তার স্বামী চিকিৎসক ডাঃ মোঃ নূরুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২৩ মে আয়না খাতুনকে বেতন পরিশোধ করে ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে ৩০ মে জরুরি কাজের কথা বলে তাকে আবার ওই বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর একটি কক্ষে আটকে রেখে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আয়না খাতুন অভিযোগ করেন, তিনি কোনো চুরির বিষয়ে জানেন না বলে জানালেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া গহনা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি গহনা উদ্ধার না হলে তাকে, তার বাবা ও স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ফলে আয়না গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে রয়েছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, মেয়ের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার কারণে সঙ্গে সঙ্গে থানায় যেতে পারিনি। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এখন আমরা শুধু সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযোগের প্রায় ১৫ দিন পর অভিযুক্ত পক্ষ থেকে চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ চলছে। এমনকি মধ্যস্থতার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগের স্বপক্ষে ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রমাণ হাতে এসেছে। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রুম ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহীদুল হাসান সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও শিক্ষিকা শিউলি বেগমের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, একজন গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
এখন প্রশ্ন একটাই একজন দরিদ্র গৃহকর্মী ও তার পরিবার কি প্রভাবশালী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাবে, নাকি ঘটনাটি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে? সেই উত্তর খুঁজছে আয়না খাতুনের পরিবারসহ সচেতন মহল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,