সান্তাহারে বিনোদনের নামে অশ্লীল নৃত্য, জনমনে চরম ক্ষোভ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের বামনী গ্রাম যুব উন্নয়ন ক্লাবের উদ্যোগে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে সান্তাহার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক আয়োজনের নামে সামাজিক মঞ্চে অসামাজিক নাচ পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেই নারী শিল্পীদের একক ও দলীয় নৃত্য পরিবেশনের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এমন ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত (০১ জুন) সোমবার রাতে উপজেলার বামনী গ্রাম যুব উন্নয়ন ক্লাবের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অতিথিদের বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে অতিথিদের উপস্থিতিতেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে হিন্দি ও বাংলা গানের সঙ্গে কয়েক জন নারী শিল্পী অসামাজিক নৃত্য পরিবেশন করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্মুক্ত জনসমাগমের এই আয়োজনে কিছু নৃত্য পরিবেশনায় অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা হয়, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরণের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি খোলা মঞ্চে একজন প্যানেল চেয়ারম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই ধরণের অসামাজিক নৃত্য পরিবেশন করা কতটুকু শোভনীয় জনমনে সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের নির্দেশনা অনুসারে মঞ্চ থেকে ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর সেখানে হিন্দি ও বাংলা ভাষার বিভিন্ন ডিজে গানের সঙ্গে মেয়েদের অসামাজিক নৃত্য পরিবেশিত হয় যা প্যানেল চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত বিএনপির নামধারী অন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপভোগ করেন। যেখানে দেশব্যাপী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী শোক পালন কর্মসূচি চলছে সেখানে নব্য বিএনপি নামধারী ও দলীয় পদধারী একজন জন প্রতিনিধির নেতৃত্বে খোলা পরিবেশে সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে এই ধরণের অসামাজিক কর্মকান্ড কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা জানা নেই।
তারা আরো দাবি করেন, অনুষ্ঠানের কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও গুলোতে দেখা যায়, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ পর্বে মঞ্চে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত ব্যানার টানানো থাকলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই ধরণের হাইব্রিড ও নব্য বিএনপি নামধারী নেতাদের কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া বিএনপি নামক দলটি নানা ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই ধরণের স্বার্থবাজ, নামধারী ও রং বদলকারী নেতাদের কারণে দলের প্রকৃত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে তাই এদের বিরুদ্ধে দ্রুত দলীয় ভাবে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, “আমি ওই অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচিতে ছিলাম। আমি চলে আসার পর কি হয়েছে তা আমার জানার বাহিরে। এছাড়া মুক্ত পরিবেশের উন্মুক্ত মঞ্চে এমন অসামাজিক নাচের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যারা করেছে তারা অবশ্যই ভালো কাজ করেনি”।




