চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথে নতুন দিগন্ত, দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রকল্প অনুমোদনের খবরে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালীতে আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করে এ খুশি উদযাপন করেছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী টানেলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে বিকল্প ও আধুনিক সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি সংযোগ সড়ক প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো অনুমোদন পাওয়া আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-
প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারার লাবিবা কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাঁশখালী, টইটং, পেকুয়া ও বদরখালী হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কটি নির্মিত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এতে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, “প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর এখন জরিপ কার্যক্রম, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।”
প্রকল্প অনুমোদনের পর স্থানীয় জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি চকরিয়া-পেকুয়ার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
একনেক সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের সভায় মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি নতুন প্রকল্প, তিনটি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।###





