মানবজমিন পত্রিকার বিগত ২০ জুন ২০২৬ ইং তারিখে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ-
বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :
১। মানবজমিন পত্রিকার গত ২০ জুন ২০২০ ইং তারিখের জনাব প্রতীক ওমর কর্তৃক প্রকাশিত “বাড়ি দখল” শিরোনামের ভুল তথ্য সম্মলিত সংবাদের প্রেক্ষিতে এই মর্মে অত্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি যে, উক্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রত্যেকটি তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং আমাকে সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক প্রতীক ওমরকে ভুল বুঝিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে মর্মে উক্ত সংবাদের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
২। প্রকাশিত উক্ত সংবাদের গর্ভে উল্লেখিত তালা ভেঙ্গে ভবন দখল, ড্রীল মেশিন দিয়ে দরজা কাটা, সংবাদে উল্লেখিত কথীত শাপলা, তার বৃদ্ধ পিতা এবং আঘাত ও হুমকি প্রদান করা, তাদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া, পলিশের নিরব থাকা কিংবা শাপলা তার ভবনের অংশ উল্লেখ করে দুই ছেলের নামে সম্পত্তি হস্থান্তর, শাপলার স্বামী আশরাফুলকে বিভ্রান্ত করে আমা কর্তৃক দলিল করে নেওয়া, আমার নেতৃেত্তে ভবনে হামলা চালানো, বাড়ী দখল, শাপলাকে টানা হেচড়া করা বা শূলতাহানী করা, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া, শাহাদুজ্জামান সাজু, শুভ উপর নির্যাতন, ভাংচুর, ক্ষতি সাধন, শাপলার জমির উপর বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য সমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মানহানিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং আমাকে সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক প্রতীক ওমরকে ভুল বুঝিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
৩। বিগত ঈদুল ফিতর এর সময় আমি স্বপরিবারে গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে বিক্রেতা আশরাফুল (শাপলার স্বামী) ও তার পিতা আইয়ুবুর রহমান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ আমার বাড়িতে গিয়ে উক্ত বাড়ি ক্রয়ের জন্য প্রস্তাব করিলে আমি উক্ত বাড়ির দলিল, নামজারী, সয়েল টেস্ট, প্লান পাস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কর্তৃক অনুমোদন এর কাগজ এবং উক্ত বাড়ীর বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখে ভবন এবং ভবন সংশ্লিষ্ট ২.৫ শতাংশ জমির মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হই যে, উক্ত ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবনের প্রকৃত স্বত্ত্ব দখলকারী আশরাফুল ইসলাম। অতপর আমি উক্ত ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবনের স্বত্ত্বের কাগজপত্র উপযুক্ত অফিসে অনুসন্ধান ও ভ্যাটিং এর মাধ্যমে কাগজপত্রের সঠিকতা ও মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে উক্ত জমি ও ভবন ক্রয়ে সম্মত হই।
৪। অতপর উপযুক্ত পনবাহা প্রদানে উক্ত ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবন যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাঘাটা সাব-রেজিষ্টি অফিসে উপস্থিত হয়ে গত ০৮/০৪/২০২৬ ইং তারিখের ১৭০০ নাম্বার সাব কবলা দলিল মূলে উক্ত ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবন ক্রয় করি। উক্ত দলিলে সনাক্তকারী স্বাক্ষী হিসেবে বিক্রেতার পিতা- মোঃ আইয়ুবুর রহমান, সংবাদে প্রকাশিত শাপলা বেগমের খালু মোঃ বাসেদুল ইসলাম এবং লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন। দলিল সম্পাদনের পর সনাক্তারী স্বাক্ষীগন এবং সংবাদে প্রকাশিত শাপলা বেগমের উপস্থিতিতে নালিশী ২.৫ শতাংশ জমি ও তৎউপরিস্থ ভবন এর দখল আমার বরাবরে হস্তান্তরিত হয়। উক্ত উপায়ে আমি নালিশী সম্পত্তির স্বত্ত্ব দখলকার নিয়ত ইইয়া আইন অনুযায়ী নিজ নামজারী পূর্বক ভোগ দখলে থাকাকালে আমি আমার পরিবার সহ পেশাগত কারনে ঢাকায় অবস্থানের সুবাদে সবকিছু জ্ঞাত থাকা স্বত্ত্বেও বে-আইনীভাবে আমার নিযুক্ত কেয়ার-টেকার আসাদুজ্জামানকে কতিপয় সন্ত্রাশী বাহিনীর মাধ্যমে আমার স্বত্ত্ব দখলীয় উক্ত ভবন হইতে বিগত ০৮/০৫/২০২৬ ইং তারিখে জোর পূর্বক বাহির করিয়া দিয়া আমাকে ভবন থেকে বেদখল করিলে আমার প্রদত্ত আইনগত ক্ষমতা (পাওয়ার) বলে আসাদুজ্জামান বাদী হইয়া শাপলা বেগমের বিরুদ্ধে গত ২০/০৫/২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-০২ এর আদালত (সাঘাটা) এ মামলা নং ৬৭/২০২৬, ধারাঃ ৮, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট সাঘাটা থানা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ সহ শাপলা বেগমকে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রাপ্তীর পর শাপলা বেগম স্বেচ্ছায় রাতের অন্ধকারে নালিশী ভবন ছেড়ে পলায়ন করিলে সংবাদ পাইয়া আমার প্রতিনিধি আমার স্বত্ত্ব দখলীয় নালিশী ভবনে যথারীতি অবস্থান গ্রহন করেন এবং অদ্যাবধি দখলে আছেন এবং একই সাথে আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে নালিশী সম্পত্তির ভোগ দখল করিতেছি।
৫। আমি কিংবা আমার পক্ষে অন্য কেউ প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের আকারে ও প্রকারে নালিশী সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল কিংবা কাউকে শারিরীক নির্যাতন ও হুমকি প্রদান করিনি। প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদে আশরাফুলের জবানবন্দী মোতাবেক তিনি নেশাগ্রস্থও না বা অনলাইন জুয়াও খেলেন না। আমি তাকে বিভ্রান্ত করে জমির দলিল করে নিয়েছি মর্মেও প্রকাশ করেননি। সুতারং আমার ভবন সহ জমি বেদখল করার সংবাদটি একটি মিথ্যা সংবাদরুপে প্রতিয়মান হয়। আমার রাজনৈতিক জীবন এবং আমার পেশাগত জীবনের বাহিরে আমার ব্যক্তিগত এবং বৈশয়িক বিষয়কে একিভূত করে এবং তার সাথে আমার সম্মানিত সিনিয়রকে জড়িয়ে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ আমাকে রাজনৈতিক এবং পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে প্রকাশিত মর্মেও প্রতিয়মান হয়।
৬। আমার বক্তব্য সাংবাদিক প্রতীক ওমর মুঠ ফোনে গ্রহনের সময় আমি প্রকৃত সত্য উৎঘাটনের জন্য উক্ত সাংবাদিককে অনুরোধ করার পাশাপাশি উক্ত ভবন ক্রয়ের বিস্তারিত বর্ননা প্রদান করা স্বত্ত্বেও উক্ত সাংবাদিক এক পাক্ষিকভাবে ভুল এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তদুপরি আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে (Sub-Judice) জানা স্বত্ত্বেও আইন বহিরভূতভাবে হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উক্ত মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমি যাহার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ইতি
মোঃ জিল্লুর রহমান
এ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট





