কোটচাঁদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অসামাজিক কাজ ও ইয়াবাসহ যুবক আটক
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এক যুবককে তিন পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তবে বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কথিত ‘বিচার-শালিস’ বসিয়ে অভিযুক্ত যুবককে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য (আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী) মোঃ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের এমন রফাদফায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাত আনুমানিক ১০টার সময় বলুহর ইউনিয়নের বলুহর কুরিপাড়া গ্রামের শহিদুলের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ তানজুর ইসলামের বাড়িতে অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে উপজেলার সুয়াদি গ্রামের মুন ওরফে কায়িত (বলুহর গ্রামের মিজানুর রহমানের নাতী)। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা বাড়িটি ঘেরাও করে প্রবাসী তানজুর ইসলামের স্ত্রী এবং মুনকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে মুনের কাছ থেকে ৩ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে জনতা। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ওই নারীর ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে বলুহর ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার, বিএনপি নেতা ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল মজিদ তাঁর দলবল ও সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা পুরো বিষয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১০টা থেকে শুরু করে গভীর রাত ৩টা পর্যন্ত চলে এই কথিত শালিস-বিচার।
শালিসের এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতার সামনেই বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ প্রবাসী তানজুর ইসলামের স্ত্রীকে ব্যাপকভাবে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। একদিকে মাদকসহ ধৃত যুবককে কোনো শাস্তি না দিয়ে, অন্যদিকে অসহায় ওই নারীকে নির্মমভাবে পেটানোর ঘটনায় শালিসস্থলেই কানাঘুষা শুরু হয়।
টাকার বিনিময়ে রফাদফা ও মাদক ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত ৩ টার দিকে একটি মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত যুবক মুন ওরফে কায়িতকে সসম্মানে ছেড়ে দেন মজিদ মেম্বার ও তাঁর সহযোগীরা। মাদক আইন এবং দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে, ৩ পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়া একজন মাদক কারবারি বা সেবনকারীকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল মজিদ-এর বক্তব্য:
এ বিষয়ে আব্দুল মজিদ মেম্বারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি মারধর এবং টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং গভীর রাতে যাতে বড় কোনো অঘটন না ঘটে, সেজন্য আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। টাকা নেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর ওই নারীকে শাসনের উদ্দেশ্যে সামান্য মারপিট করা হয়েছে, কোনো নির্মম নির্যাতন করা হয়নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার প্রতিপক্ষরা এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুন অসামাজিক কাজ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো, তার ওপর তার কাছে তিন পিস ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেল। এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। মজিদ মেম্বার কোন আইনের বলে গভীর রাতে থানা পুলিশকে না জানিয়ে এই মাদকের ঘটনা রফাদফা করলেন? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
একটি প্রবাসী পরিবারের ও দুটি সন্তানের মায়ের ওপর প্রকাশ্য নির্যাতন এবং মাদকসহ আটক যুবককে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং মাদক ধামাচাপা দেওয়ার এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে কোটচাঁদপুরের সুশীল সমাজ।




