২০০টিরও বেশি স্প্লিন্টার নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও আজও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি ভুলতে পারেননি ছাত্রদল নেতা সিরাজ
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
জুলাই মাস এলেই ফিরে আসে এক বেদনাবিধুর স্মৃতি পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সন্তান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরাজের। ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও আজও তিনি সেই ঘটনার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করছেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই পবিত্র রমজান মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল চলাকালে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় তার পেটে গুলি লাগে। পরে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি দাবি করেন, টানা পাঁচ দিন লাইফ সাপোর্টে, আট দিন আইসিইউতে এবং পাঁচটি বড় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা তার জীবন রক্ষা করেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তার শরীরে ২০০টিরও বেশি স্প্লিন্টার রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করছেন বলে জানান তিনি।
সিরাজুল ইসলাম আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার মানসিক আঘাতে তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং তার মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতে ভুগছেন।
তিনি বলেন, জীবনের সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তিনি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পরও দলীয়ভাবে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাননি।
তার ভাষায়, “দলের জন্য যা করেছি, তা কোনো পদ-পদবির আশায় নয়; আদর্শের প্রতি বিশ্বাস থেকেই করেছি। তবে দল যদি আমার ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে কোনো দায়িত্ব দেয়, তাহলে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করব।”
তিনি আরও বলেন, “দলের দুর্দিনে যারা জীবন ও ক্যারিয়ারের ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনের পাশে ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। পাশাপাশি হাইব্রিড বা সুযোগসন্ধানীরা যেন প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে না পারে, সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।”
সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।





